ধূমপান, সারা বিশ্বেই একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবেই দেখা হয়। বাংলাদেশেও সংগৃহীত মোট রাজস্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে তামাকজাত দ্রব্য থেকে।
আমরা জানি, ধূমপান মানব শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর। ফুসফুসের ক্যানসার, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, সিওপিডি, হাঁপানিসহ অসংখ্য রোগের কারণ ধূমপান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর তুলনায় পুরুষ ধূমপায়ীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও, নারী ধূমপায়ীর সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই নারীর ধূমপানকে ভালো চোখে দেখা হয় না। এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে, তবে কি পুরুষের তুলনায় নারীর ক্ষেত্রে ধূমপানের ক্ষতিটাও বেশি?
ড. র্যাচেল আর. হাক্সলি এবং প্রফেসর মার্ক উডওয়ার্ড একটি সিস্টেমিক রিভিউ ও মেটা-অ্যানালাইসিস ২০১১ সালে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশ করেন। প্রায় ৩৯ লাখ মানুষের তথ্য এবং প্রায় ৬৭ হাজার করোনারি হৃদ্রোগের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পুরুষদের তুলনায় নারীর করোনারি হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকাংশেই বেশি। একই মাত্রার ধূমপানে পুরুষের তুলনায় নারীর করোনারি হৃদ্রোগের ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।
তা ছাড়া, ধূমপায়ী নারীদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্ব, গর্ভপাত, অকাল প্রসব, কম ওজনের শিশুর জন্ম, অকাল মেনোপজ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও রয়েছে।
তবে এর মানে এটা নয় যে পুরুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেই বা কম। ধূমপানের কারণে পুরুষের ইরেকটাইল ডিসফাংশন, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, শুক্রাণুর গুণগত মান কমে যাওয়া, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে।
দিনে একটি সিগারেট খেলেও হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। একমাত্র ধূমপান বন্ধ করলেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সারা বিশ্বে পুরুষদের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই বিভিন্ন দেশে ধূমপানের কারণে রোগ ও মৃত্যুর সংখ্যা পুরুষদের মধ্যেই বেশি।
তবে বিশেষ করে হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে একই মাত্রার ধূমপানের জৈবিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল। বলা বাহুল্য, ধূমপান নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত মারাত্মক ও ক্ষতিকর।