ইয়েমেনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী সামরা লোকমান ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। এ নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই।
লোকমান বলেন, যুদ্ধপন্থী অবস্থান এবং অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে ট্রাম্প মিশিগানের আরব-আমেরিকানদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তবে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা চলার সময় অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে (২০২৪) ডেমোক্র্যাটদের আবারও ভোট দেওয়াটা তাঁদের কাছে যৌক্তিক বলে মনে হয়নি।
আল-জাজিরাকে সামরা লোকমান বলেন, ‘গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই হতো। আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা নিয়ে আমাদের কোনো আফসোস নেই।’
লোকমান আরও বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি বলেছিলাম, প্রয়োজনে ট্রাম্পকে আরও চার বছর মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিতে আমি প্রস্তুত। আমরা জানতাম, আমাদের অনেক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান খারাপ হবে। তবু ডেমোক্রেটিক দলকে জবাবদিহির মুখে ফেলতে আমরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে রাজি ছিলাম।’
সামরা লোকমান একা নন।
ট্রাম্পের কট্টর ইসরায়েলপন্থী নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সত্ত্বেও আরব-আমেরিকানদের অনেকে মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করার কোনো সুযোগই ছিল না। তাঁদের বিশ্বাস, ডেমোক্রেটিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি করার সিদ্ধান্তই ছিল আরব-আমেরিকানদের জন্য সঠিক পদক্ষেপ।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজা ও লেবাননে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন। পাশাপাশি তিনি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। দেশের ভেতরেও তিনি ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও জোরদার করেন।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট এলাকায় বিপুলসংখ্যক আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ওই এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক কৌশলবিদ হুসেইন দাবাজেহ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘নিজের বিবেকের কাছে সৎ থেকে আমি কাউকেই কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিতে বলতে পারতাম না।’
দাবাজেহ আরও বলেন, দুই খারাপ বিকল্পের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খারাপটিকে বেছে নেওয়ার যুক্তি এখন আর আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারছে না।
জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন বিগত ডেমোক্রেটিক সরকার গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে চাপ দেওয়ার দাবি উপেক্ষা করেছিল। ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে গিয়েছিল তারা। এ কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আরব-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে যায়।
তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান।
এসব নীতির কারণে বহু আরব-আমেরিকান ভোটার দলটি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে আরব-আমেরিকানরা ডেমোক্রেটিক দলের নির্ভরযোগ্য ভোটার ছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচার দল আরব-আমেরিকান সম্প্রদায়ের নেতা ও অধিকারকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের নীতি
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম ইমামকে মঞ্চে তুলে আনেন এবং আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রশংসা করেন।
নির্বাচনের আগে তিনি ডেট্রয়েটের উপকণ্ঠে ডিয়ারবর্ন এলাকাও সফর করেন। সেখানে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজা ও লেবাননে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন। পাশাপাশি তিনি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। দেশের ভেতরেও তিনি ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও জোরদার করেন।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প মিশিগানে জয়ী হন। এর অন্যতম কারণ ছিল ডিয়ারবর্ন এলাকার অনেক আরব ভোটার কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁদের কেউ ট্রাম্পকে ভোট দেন, কেউ তৃতীয় কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন করেন, কেউ প্রেসিডেন্ট পদের ঘর ফাঁকা রেখে ব্যালট জমা দেন, আবার কেউ ভোটই দেননি।
ওই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে আল-জাজিরা। এতে দেখা যায়, পূর্ব ডিয়ারবর্নের আরব-অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পান ট্রাম্প, ২৯ শতাংশ ভোট যায় গ্রিন পার্টির প্রার্থী জিল স্টেইনের বক্সে এবং ১৬ শতাংশ ভোট পান কমলা হ্যারিস।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজা ও লেবাননে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার সুযোগ দেন। পাশাপাশি তিনি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। দেশের ভেতরেও তিনি ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন আরও জোরদার করেন। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সমালোচনা করে আন্দোলনে নামা বিদেশি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের অভিযান শুরু করেন ট্রাম্প।
এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইয়েমেনের নাগরিকদের জন্য বিদ্যমান অভিবাসন সুরক্ষা কর্মসূচিও বাতিল করেন। এতে ইয়েমেনের নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অথচ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই কমিউনিটির অনেক নেতাই তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
বর্তমানে আরব-আমেরিকানরা ট্রাম্পকে নিয়ে কী ধরনের মনোভাব পোষণ করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে হুসেইন দাবাজেহ বলেন, ‘তাঁরা তাঁকে ঘৃণা করেন। এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার আর কোনো উপায় নেই। আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের যাঁরা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমি এমন একজনকেও চিনি না, যিনি ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে খুশি।’
‘গণহত্যার ঘটনা আমাদের পরিণত করেছে’
অনেক আরব-আমেরিকানই জোর দিয়ে বলছেন, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানে এই নয়, ট্রাম্পের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা বা সমর্থন ছিল।
ডিয়ারবর্ন শিক্ষা বোর্ডের ট্রাস্টি ও কৌতুকশিল্পী আমের জাহর বলেন, ‘ট্রাম্পের নীতির ভয়াবহতা আমাদের চেয়ে ভালো আর কেউ বোঝে না। ২০১৭ সালে তাঁর নীতির প্রথম শিকার ছিলাম আমরাই।’
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে ট্রাম্প মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
জাহর আরও বলেন, ‘ট্রাম্প কতটা ক্ষতি করতে পারেন, সে সম্পর্কে আমাদের চেয়ে বেশি কেউ জানে না। কিন্তু গাজায় গণহত্যার ঘটনা আমাদের এতটা পরিণত করে তুলেছে যে শেষ পর্যন্ত আমরা রাজনীতিকদের “না” বলতে পেরেছি।’
মিশিগানে আবারও নির্বাচনের মৌসুম শুরু হওয়ায় আরব-আমেরিকানরা আবারও নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দেখতে পাচ্ছেন।
মিশিগানে আবারও একটি নির্বাচনের মৌসুম শুরু হয়েছে। সে নির্বাচনে আরব-আমেরিকানরা আবারও নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দেখতে পাচ্ছেন।
মিশিগানে বসবাসকারী আরব-আমেরিকানদের একটা বড় অংশ ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের পক্ষে একজোট হচ্ছেন। যদিও তিনি এর আগে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন। অনেক ভোটার এখনো নিজেদের রাজনৈতিক বিকল্প খোলা রাখছেন।
ইয়েমেনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী সামরা লোকমান বলেন, তিনি মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইপর্বে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে ইসরায়েলের কড়া সমালোচক বলে পরিচিত সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবকে ভোট দেবেন।
সামরা লোকমানের মতে, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা যদি প্রগতিশীলপ্রার্থীদের সমর্থন করেন, তাহলে আরব ভোটারদের কাছে ডেমোক্রেটিক দল আবারও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।
মার্কিন রাজনীতিতে, বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে—এ নিয়ে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন। তবে আরব-আমেরিকানদের কাছে এর উত্তর স্পষ্ট।
আরব-আমেরিকান কমিউনিটির নেতারা বলছেন, যখন তাঁদের স্বজনেরা নিহত হচ্ছেন এবং ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের জন্মভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন অভ্যন্তরীণ নীতির প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই গৌণ হয়ে পড়ে।
সামরা লোকমান বলেন, ‘গাজা, ফিলিস্তিন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়গুলো এখন সবার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আর আমার কমিউনিটির জন্য এটি এখন একটি অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা।’
লোকমান আরও বলেন, ‘আপনি রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট যা-ই হোন না কেন, যদি আপনি আইপ্যাকের বিরোধিতা করেন এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করেন, তাহলে আপনি যে দলেই থাকুন না কেন, আমাদের ভোট পাবেন।’
সামরা লোকমান এখানে আইপ্যাক বলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির সংক্ষেপে আইপ্যাকের কথা বলেছেন।
ডিয়ারবর্ন শিক্ষা বোর্ডের ট্রাস্টি ও কৌতুকশিল্পী আমের জাহরও একই ধরনের কথা বলেছেন।

জাহর বলেন, ‘অনেকে চান আমরা যেন একটি মাত্র ইস্যুকে ভিত্তি করে ভোট না দিই। অর্থাৎ তাঁরা চান, শুধু ট্রাম্প খারাপ হওয়ার কারণে আমরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি উপেক্ষা করি, এর জন্য ক্ষতির শিকার হই, আমাদের পরিবারের সদস্যদের মরতে দেখি, আর সবকিছু মেনে নিই। কিন্তু আমরা বলেছি, “না”। গাজার শিশুদের রক্তের মূল্য আছে।’
জাহর জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনী সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আরব-আমেরিকানরা একা নন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এবার প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচনে ইসরায়েলপন্থী বহু জনপ্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন।
আল-জাজিরাকে জাহর বলেন, ‘এখন এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে কেউ যদি বলে, “হাসপাতালে বোমা হামলা বন্ধ করুন”, সবাই বুঝে যায় সে ইসরায়েলের কথাই বলছে। এটা আমাদের কারণে হয়নি; এটা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে হয়েছে।’
জাহর আরও বলেন, ‘মানুষ এখন সত্যটা বুঝতে শুরু করেছে। যখন আপনি সত্য জানতে পারেন, তখন বুঝতে পারেন, এত দিন আপনাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। আর তখন ক্ষোভ জন্মায়। এই ন্যায়সংগত ক্ষোভই অনেক মানুষকে এভাবে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।’
রাজনৈতিক কৌশলবিদ হুসেইন দাবাজেহ বলেন, অন্য সব মার্কিনের মতোই আরব-আমেরিকান ভোটারদের কাছেও অর্থনীতি, জীবনযাত্রার খরচ এবং অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েল-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে তারা উপেক্ষা করতে পারেন না।
ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ
২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা গাজা-সংক্রান্ত নীতির কারণে সৃষ্ট অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে আরব ও মুসলিম ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন অনেক রক্ষণশীল রাজনীতিক আবারও নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এই কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচার শুরু করেছেন।
নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই ট্রাম্প কংগ্রেস নির্বাচনের জন্য ফ্লোরিডার রাজনীতিক র্যান্ডি ফাইনকে সমর্থন দেন। মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ফাইনের। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘সব মুসলমানকে ধ্বংস করে দেওয়ার’ আহ্বান জানান।
এদিকে ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নররা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
মিশিগানের গভর্নর পদপ্রার্থী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জন জেমস সিএআইআরকে কালো তালিকাভুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন।
সামরা লোকমান বলেন, ওই ঘোষণা দেওয়ার আগে জন জেমস কমিউনিটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং ডিয়ারবর্নের ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সামরা লোকমান আরও বলেন, রিপাবলিকান পার্টির সামনে তখন রাজনৈতিক সমীকরণকে স্থায়ীভাবে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার বড় একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সেই সুযোগ হারিয়েছে। সত্যিই তারা একটি বড় সুযোগ নষ্ট করেছে।