সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / ইরানের পরমাণু, ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের পরমাণু, ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পরমাণু, ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

সাময়িক বিরতির পর ইরানে আবার হামলা শুরুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তাহান্তে—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার বা আজ রোববার এ হামলা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, প্রতিশোধ নিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানে আবার হামলা শুরুর পরিকল্পনার কথা সিএনএনকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর পাঁচ দিন আগে টানা ১৩ দিন ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা নিশানা করে হামলা চালিয়েছিল তেহরান।

সিএনএনকে মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধ্বংস করতে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বেসামরিক জ্বালানি স্থাপনাগুলো নিশানা করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তেহরানের দক্ষিণে পিক্যাক্স পর্বতসহ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাতিলও হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলাপের সময় ইরানে ব্যাপক হামলার আভাস দিয়েছিলেন। কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধ বন্ধের তৎপরতায় অগ্রগতি না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। হামলা এমন পর্যায়ে যাবে যে তারা বলতে বাধ্য হবে—“আমরা আর এটা (হামলা) নিতে পারছি না”।’

ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন কি না, তা হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চেয়েছিল সিএনএন। জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ধরনের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আর চলতে দেবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যাকে ‘অর্থবহ উপায়’ বলে মনে করেন, সেভাবে আলোচনার টেবিলে না ফিরলে ইরানকে এর মূল্য দিতে হবে।

নানা চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে ১৭ জুন দুই দেশ সমঝোতা স্মারকে সই করে। এতে আশার আলো দেখা দিলেও ৭ জুন থেকে আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এর পর থেকে বিরতি দিয়ে সেই হামলা চলছে। পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেরও কম ধাক্কা সামলাতে হয়নি।

প্রথমত, অর্থনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক। সম্প্রতি সিএনএনের করা এক জরিপেও দেখা গেছে, ট্রাম্প যেভাবে এই যুদ্ধ সামলাচ্ছেন, তাতে সায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এমনকি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টি থেকেও যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ আসছে।

গতকালই ডেমোক্র্যাটদলীয় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জন লারসন বলেছেন, যুদ্ধে যখন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পরিমাণ বাড়ছে আর তেলের দাম আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে, তখন কংগ্রেস হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ইরান যুদ্ধে তহবিলের জোগান বন্ধ করতে তিনি আরেকটি বিল উত্থাপন করবেন। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।

আরেকটি বিষয় হলো, যুদ্ধ চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার ফুরিয়ে আসাটা। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এবার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বরাতে ফক্স নিউজ বলেছে, অস্ত্র সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান হারে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফক্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তা কমে এখন ৮২৭টিতে দাঁড়িয়েছে। আর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড-এর ক্ষেপণাস্ত্র ৪৫২টি থেকে কমে এখন ২৭৮টি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে অন্তত তিন বছর লাগতে পারে। এতে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনারা।

‘যুদ্ধে ইরান জিতেছে’

বুধবারের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলেও ইরান থামেনি। গতকাল কুয়েতে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ইরানের ড্রোনের আঘাতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে একটি সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এই হামলার বিরুদ্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার কুয়েতের রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ, সেখানেও গতকাল হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, প্রণালির ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। আরেকটি জাহাজের কাছে বিস্ফোরণ হয়েছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের আটটি জাহাজকে বাধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা।

এর মধ্যে নতুন করে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালায়, তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন হামলা হবে ‘পাগলামি’। এর প্রতিশোধ নিতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজনে ‘জায়নবাদীদের’ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও নিশানা করা হবে।

এই যুদ্ধে ইরানের ‘জয়’ হয়েছে বলে মন্তব্য করে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তবে সেই বিজয়কে স্থায়ী করতে হবে। শক্তিশালী ইরান গড়ার প্রচেষ্টা এখনই শুরু করতে হবে।

About Editor Todaynews24

Check Also

মস্কোয় ক্যাফের কাছে বিস্ফোরণ, নিহত ৩

মস্কোয় ক্যাফের কাছে বিস্ফোরণ, নিহত ৩

আরটির খবরে বলা হয়েছে, টেলিগ্রাম চ্যানেল শটের দাবি, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *