সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / আমার প্রিয় চাঁদের জন্মদিন
আমার প্রিয় চাঁদের জন্মদিন

আমার প্রিয় চাঁদের জন্মদিন

প্রিয় দিদিভাই,

আগেই বলি, শুভ জন্মদিন! কিআ এই লেখাটা না ছাপলে খুব কষ্ট পেতাম। আজকে আমি তোকে অনেক কথা বলব, যা আমি মুখে প্রকাশ করতে পারি না। বাসায় এমন কোনো মানুষ নেই, যার সঙ্গে আমি আমার সব সিক্রেট শেয়ার করতে পারি। মা-বাবা আমার সঙ্গে যখন খারাপ ব্যবহার করেন, আমার না খুব মন খারাপ হয়ে যায়। আমার মন খারাপ হওয়া কেউ পাত্তা দেয় না, তুই ছাড়া। আমাকে এসে এমনভাবে সান্ত্বনা দিস, যেন মনে হয় স্বর্গ থেকে পরি নেমে এসেছে। তোর মতো করে আর কেউ সান্ত্বনা বা আদর করতে পারবে না।

তুই কিন্তু আমাকে অনেক দিক দিয়ে ইন্সপায়ার করিস। আমি জানি, আমি তোর সঙ্গে কত খারাপ ব্যবহার করেছি, তোর বিশ্বাস রাখতে পারিনি, বাজেভাবে ঝগড়া-মারামারি করেছি—আরও কত কী! এসব কারণে তুই আমার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখতি। আমি ভুল বুঝতাম; ভাবতাম, দিদিভাই আমাকে পছন্দই করে না! দিদিভাই খুব খারাপ! কিন্তু এখন বুঝতে শিখেছি, তুই যা করতি, ঠিকই করতি। আমিও যদি তোর জায়গায় থাকতাম, আমিও তা–ই করতাম।

মনে আছে, আমার জীবনের প্রথম উপহার তুই দিয়েছিলি—একটা মৌমাছি কলম। ইশ্‌! দেখতে কী কিউট ছিল! কলমটার মুখ হারিয়ে গেছে; কিন্তু পুরো জিনিসটাই আছে। তুই বলেছিলি, টাকা ছিল তোর কাছে, তাই কিনে এনেছিস। কিন্তু কলমটা কেনার টাকাটা জমাতে তোর কত সময় লেগেছে আর কত কষ্ট হয়েছে, তোর বোন হিসেবে তা আন্দাজ করা যায়। সেই ইকবাল রোড থেকে শ্যামলী—কত দূর পায়ে হেঁটে, নিজের জন্য টাকা না জমিয়ে আমার জন্য কিনেছিলি! আসলে ওইটাই আমার জীবনের অনেক মূল্যবান জিনিসের একটা। মাঝেমধ্যে ভেবে খারাপ লাগে, যে মানুষটার সঙ্গে এত খারাপ ব্যবহার করি, সে মানুষটা কত ভালো হলে শত রাগে পরেও কষ্ট করে টাকা জমিয়ে জিনিস কিনে দেয়!

আবার তোকে নিয়ে খুব প্রাউড ফিল করার মতো জিনিসও যে কত আছে, বলে শেষ করা যাবে না। যে বয়সে মানুষ ঘরে বসে ঘুমিয়ে থাকে, সেই বয়সে তুই একটা আস্ত অর্গানাইজেশন খুলে বসলি! তুই যখন তোর বন্ধুদের নিয়ে আমাদের স্কুলে প্রথম কর্মশালা করার সময় আমাকে নিয়ে গিয়েছিলি সাহায্য করার জন্য, কথা বলার সময় যখন আমার নাম বলেছিলি—আমার যে কী প্রাউড আর ভালো লেগেছিল, বলে বোঝাতে পারব না!

তোর সম্পর্কে যে এত কথা আছে, যা এক হাজার পৃষ্ঠা লিখেও শেষ করা যাবে না। ভবিষ্যতে তুই যখন অনেক বড় হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করবি, আমার চেয়ে খুশি কেউ হবে না। আমি চাই তুই পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো আর উন্নত মানুষ হস। এইচএসসি পরীক্ষার অনেক অনেক শুভকামনা! আমি জানি, তুই অনেক ভালো ফল করবি। আবারও শুভ জন্মদিন, দিদিভাই!

লেখক: শিক্ষার্থী, ন্যাশনাল ওয়াইডব্লিউসিএ গার্লস স্কুল, ঢাকা

About Editor Todaynews24

Check Also

‘বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানরা অনুপ্রবেশকারী নন’

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র বিধানের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ কোনোভাবেই অনুপ্রবেশকারী নন, বরং তারা প্রত্যেকেই শরণার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *