সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬। ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা বিষয়ে পরামর্শ
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬। ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা বিষয়ে পরামর্শ

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬। ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা বিষয়ে পরামর্শ

ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র: পরামর্শ

ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র বিষয়টি বুঝে পড়লেই ভালো ফল করা সম্ভব। সৃজনশীল অংশে ১১টি প্রশ্ন থাকবে। যেকোনো সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নে একটি উদ্দীপক (ঘটনা) ও চারটি প্রশ্ন দেওয়া থাকবে। চারটি প্রশ্নই উদ্দীপকনির্ভর হয় না। প্রথম দুটি পাঠ্যসূচিনির্ভর এবং পরবর্তী দুটি উদ্দীপকনির্ভর হয়। সৃজনশীল পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে চিন্তনদক্ষতার বিভিন্ন স্তরের (জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ ও মূল্যায়ন) প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এ চারটি স্তরে সৃজনশীল প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তোমার উত্তর যেন স্পষ্ট, ধারাবাহিক, বাস্তব ও উদাহরণসমৃদ্ধ হয়। চিত্র, ফর্মুলা ও হিসাবকে ভয় নয়, বন্ধু বানাও। অর্থের সময়মূল্য, মূলধন বাজেটিং ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, ঝুঁকি ও মুনাফার হার এসব অঙ্ক বা চার্টে নম্বর তুলতে সুবিধা। প্রতিটি হিসাবের ধাপ পরিষ্কার করে লেখো। ভুল হিসাবের চেয়ে না লেখাই ভালো। মুখস্থ নয়, বুঝে লেখো—এই বিষয়ে মুখস্থ উত্তর দিলে পরীক্ষক ধরতে পারেন। তার চেয়ে যদি তুমি বুঝে নিজের ভাষায় লেখো, তাহলে উত্তর হয় স্বতঃস্ফূর্ত ও গ্রহণযোগ্য। প্রশ্ন বোঝো, উত্তর লেখো, একটি প্রশ্নে চারটি অংশ থাকে। প্রতিটি অংশ নিজস্ব মানে বহন করে। ‘ঘ’ অংশে সবচেয়ে বেশি নম্বর, তাই বিশ্লেষণ করো যুক্তিসহ। ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্রে পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য প্রথমেই সংক্ষিপ্ত ৫টি অধ্যায় থেকে নিজে কিছু অধ্যায় নির্দিষ্ট করে নেবে। তোমরা নির্ধারিত অধ্যায়গুলো অনুশীলন করবে।

সৃজনশীল প্রশ্নের ধরন পুরোপুরি আয়ত্ত করো

প্রতিটি প্রশ্নে ক, খ, গ ও ঘ চারটি অংশ থাকবে। প্রশ্নের ‘ক’ অংশ সহজ, যা ‘১’ নম্বর বরাদ্দ। এই অংশের জন্য যথার্থ উত্তর করবে। খুব বেশি লেখার প্রয়োজন নেই। প্রশ্নের ‘খ’ অংশ মধ্যম, যা ‘২’ নম্বর বরাদ্দ। এই অংশটিতে প্রশ্নে যা চাওয়া হবে, তোমরা সমাধানে প্রয়োজনীয় সবকিছুই উল্লেখ করবে। প্রশ্নের ‘গ’ অংশ কঠিন মানের হবে, যা ‘৩’ নম্বর বরাদ্দ। প্রশ্নের ‘ঘ’ অংশও প্রশ্নের কঠিন মানের হবে, যা ‘৪’ নম্বর বরাদ্দ। এই অংশে তোমরা উত্তর করার সময় নিজেদের চিন্তাচেতনার প্রতিফলন ঘটাবে। প্রশ্নের উত্তর করার সময়, ধাপ ও চিন্তার ব্যাপকতার ওপর ভিত্তি করে নম্বর বিভাজন করতে হবে। সৃজনশীল প্রশ্নে ৪টি অংশ থাকে: ক (জ্ঞান), খ (অনুধাবন), গ (প্রয়োগ), ঘ (বিশ্লেষণ)। ‘ঘ’ অংশে থাকে সবচেয়ে বেশি নম্বর (৪), তাই যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো। উত্তর গুছিয়ে, অনুচ্ছেদ আকারে নয়, পয়েন্ট আকারে লিখলে নম্বর বেশি মেলে। কোনো প্রশ্নের যতটুকু অংশের শুদ্ধভাবে সমাধান করতে পারবে, ততটুকু অংশের জন্য নম্বর পাবে। একটু ভুল করলেই সম্পূর্ণ উত্তর কাটার দরকার নেই। তাই কোনো সৃজনশীল প্রশ্নের ক, খ, গ কিংবা ঘ–এর কিছু অংশের সঠিক সমাধান করতে না পারলে বিচলিত হবে না।

কীভাবে লিখলে পরীক্ষকের মন জয় করা যায়

শুধু পড়লে হবে না, কীভাবে লিখলে পরীক্ষকের মন জয় করা যায়, সেটিই হলো ‘টেকনিক’। বুঝে লেখা + সঠিক গঠন + সময় বাঁচানো = সর্বোচ্চ নম্বর। প্রতিটি প্রশ্নে ক, খ, গ ও ঘ—চারটি অংশে উত্তর করার সময় পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে লিখলে নম্বর বেশি মেলে। হিসাব ও চিত্রে নম্বর তুলতে চাইলে শুদ্ধ ফর্মুলা + ধাপে ধাপে উপস্থাপন, যেসব প্রশ্নে হিসাব বা চার্ট থাকে (বাজেট, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, মূলধন নির্ধারণ ইত্যাদি), সেখানে ধাপে ধাপে হিসাব দেখালে পুরো নম্বর পাওয়া যায়। ভুল হলেও পুরো প্রসেস ঠিক থাকলে আংশিক নম্বর মেলে। সংজ্ঞা ও পার্থক্য লিখলে অবশ্যই টেবিল ফরম্যাট ব্যবহার করো, উদাহরণ: বিমা ও পুনর্বিমার পার্থক্য/বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা। কলাম আকারে পার্থক্য লিখলে স্পষ্টতা বাড়ে ও নম্বর বাড়ে। তোমরা প্রথমে প্রতিটি প্রশ্ন ভালোভাবে পড়বে এবং তত্সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলো বুঝবে। অতঃপর যে প্রশ্নগুলো সমাধান ভালোভাবে করতে পারবে, সেগুলোর সমাধান করবে। প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে, প্রশ্নে কী চাওয়া হয়েছে? প্রশ্নগুলো ঠিক ঠিক বোঝার ওপর নির্ভুল সমাধান প্রদান নির্ভর করে। মানবণ্টনের ওপর খেয়াল রেখে প্রতিটি প্রশ্ন অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ে সমাধান নির্দিষ্ট করতে হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর করার সময় মাথা ঠান্ডা রেখে যথাসম্ভব দ্রুত উত্তর লিখতে হবে, যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশ্নের উত্তর করা যায়।

প্রতিটি উত্তর শুরুতে ছোট ভূমিকা বা সংজ্ঞা লিখে শুরু করো, প্রশ্ন যত বড়ই হোক না কেন, এক-দুই লাইনের ভূমিকা দিলে উত্তর আরও প্রাসঙ্গিক ও গোছালো হয়। পয়েন্ট আকারে সাজানো লেখা পরীক্ষকের দৃষ্টি ধরে রাখা যায়।

অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ টপিক মুখস্থ নয়, বুঝে আয়ত্ত করো, যেমন: অর্থব্যবস্থার উপাদান, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও চেক ব্যবস্থাপনা, বিমা ও পুনর্বিমার পার্থক্য, বাজেট প্রণয়নপ্রক্রিয়া। এই বিষয়গুলো বোঝা গেলে সহজে লেখায় প্রকাশ করা যায়। লেখায় উদাহরণ ও বাস্তব প্রয়োগ সংযুক্ত করো। লেখার গুণগত মান = নম্বর বৃদ্ধি, বানান ভুল, লাইন গোঁজাগুজি, অস্পষ্ট হস্তাক্ষর হলে নম্বর কাটা পড়ে। তাই সুন্দর হাতের লেখা, পরিষ্কার লাইনিং ও মার্জিত ভাষা ব্যবহার করো।

পরীক্ষার আগে করণীয়

বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর দেখে অনুশীলন করবে। বিভিন্ন টেস্ট পেপার ও প্রশ্নব্যাংক থেকে প্রশ্ন সমাধান করবে। অঙ্ক করার সময় ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অভ্যাস করবে।

সময় ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষার হলে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য কত সময় বরাদ্দ করবে, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখ। সময়মতো সব কটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো। অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে যে প্রশ্নগুলো সহজে পারবে, সেগুলোর উত্তর আগে দেবে। অপ্রয়োজনীয় উত্তর লেখা বা বেশি সময় ব্যয় করা থেকে বিরত থাকো। গাণিতিক বা প্রায়োগিক সমস্যার সমাধানে প্রতিটি ছকে পেনসিলের ব্যবহার করবে, অবশ্যই গাণিতিক সমাধানে নিখুঁত ক্যালকুলেশন করবে। একটি প্রশ্নের সব অংশের উত্তরই ধারাবাহিকভাবে করবে।

বহুনির্বাচনি অংশ

প্রতিটি বহুনির্বাচনি প্রশ্নের সঠিকতার কাছাকাছি গেলে হবে না, তোমাদের সঠিক উত্তর করতে হবে। ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ৩০ মিনিটে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১। এ বছর ৩০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর করবে। ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা যায় না। তাই জানা–অজানা নির্ধারিত সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কোনো বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর করতে না পারলে সেটা নিয়ে সময় নষ্ট না করে পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর করার চেষ্টা করবে।

  • মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রভাষক, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

About Editor Todaynews24

Check Also

হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ অসুস্থ ৫০

সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ১০ তলাবিশিষ্ট ব্লিস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে লাগা এই আগুনে তীব্র ধোঁয়া ও হুড়োহুড়িতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ অন্তত ৫০ জন রোগী ও তাদের স্বজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোয় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *