সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / আড়ংয়ের ব্যাগ না পেয়ে পলিথিনে বিশ্বকাপ!
আড়ংয়ের ব্যাগ না পেয়ে পলিথিনে বিশ্বকাপ!

আড়ংয়ের ব্যাগ না পেয়ে পলিথিনে বিশ্বকাপ!

বিশ্বকাপ জেতার পর সবাই একটি ব্যাপার খেয়াল করল—স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া বিশ্বকাপ ট্রফিটা সাধারণ প্লাস্টিকের পলিথিনে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন! ছবি দেখে পৃথিবীর মানুষ হতবাক। কেউ বলল, এত বড় ট্রফি, একটা ব্র্যান্ডেড ব্যাগও জোটেনি? কেউ আবার বলল, স্প্যানিশ অর্থনীতি কি এতটাই খারাপ?

কিন্তু সত্যিটা জানলে আপনিও কুকুরেয়াকে সালাম দেবেন।

ফাইনালের দিন খেলোয়াড়েরা মাঠে নামার আগে নাকি কেউই টাকা সঙ্গে রাখেননি। মাঠে বিকাশ চলে না, নগদ টাকাও লাগে না। তাই আড়ং থেকে একটি সুন্দর শপিং ব্যাগ কেনার কোনো সুযোগ ছিল না। ম্যাচের আগে নাশতা আনতে গিয়ে যে দোকানদার একটি পলিথিন দিয়েছিলেন, কুকুরেয়া সেটিই যত্ন করে সাইড বেঞ্চের পাশে রেখে দিয়েছিলেন। সতীর্থরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এটা রেখে কী হবে? কুকুরেয়া রহস্যময় হাসি দিয়ে বলেছিলেন, ‘কেন জানি মনে হচ্ছে, আজ এটা খুব কাজে লাগবে!’

ম্যাচ শেষে সবাই বুঝল, লোকটা আসলেই দূরদর্শী।

তবে আসল রহস্য এখানেই শেষ নয়।

ফাইনাল শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা আর্জেন্টিনার কোচের সামনেই যেভাবে ধাক্কাধাক্কি আর হাতাহাতি শুরু করেছিলেন, সেটি দেখে কুকুরেয়ার মাথায় লাল বাতি জ্বলে ওঠে। তিনি ভাবলেন, ‘ট্রফিটা যদি চকচকে অবস্থায় হাতে রাখি, কেউ আবেগে ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ও দিতে পারে; কিন্তু পলিথিনে থাকলে কে বুঝবে? আর কেউ যদি সত্যিই দৌড় দেয়, তাহলে আমরাও পেছন পেছন দৌড়ে ধরে ফেলতে পারব!’

এটাকে বলে নিরাপত্তার আধুনিক কৌশল।

আরেকটি ভয়ও ছিল। ব্রাজিল তো ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ ট্রফির ক্ষুধায় আছে। ক্ষুধার্ত মানুষকে যেমন বিরিয়ানি সামনে রেখে বিশ্বাস করা যায় না, তেমনি ট্রফি-ক্ষুধার্ত ব্রাজিল সমর্থকদের সামনেও ট্রফি খোলামেলা রাখা ঠিক হবে না। তাই কুকুরেলা ট্রফিটাকে এমনভাবে পলিথিনে ভরে নিলেন, যেন মনে হয়, বাজার থেকে আলু-পেঁয়াজ কিনে ফিরছেন।

সবচেয়ে বড় বিপদ অবশ্য ছিল বাংলাদেশ।

কুকুরেয়া যদি ভুল করে ঢাকা বা চট্টগ্রামে নেমে যেতেন, তাহলে তো সর্বনাশ! সমর্থকেরা ট্রফিটা ছিনিয়ে নিজেদের জিম্মায় রেখে কুকুরেয়াকে খালি হাতে অন্য ফ্লাইটে তুলে দিতেন।

আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা বলতেন, ‘এইটা তো আমাদের চার স্টারের ট্রফি। স্পেন ভুল করে নিয়ে গেছে!’ আর ব্রাজিল সমর্থকেরা বলতেন, হেক্সা মিশন তো অনেক আগেই কমপ্লিট। তোমরা টিভিতে যা দেখেছ, সব ফিফার এআই দিয়ে বানানো ভিডিও!’

এরপর শুরু হতো ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব বিশ্লেষণ আর সঙ্গে সঙ্গে ফোর স্টার ও সিক্স স্টারের জার্সির প্রি-অর্ডার।

এদিকে স্পেনে মানুষ নিশ্চিন্তে অবিকল রেপ্লিকা ট্রফি নিয়ে আনন্দ করছে আর আসল ট্রফি ঘুরে বেড়াচ্ছে একটুকরা পলিথিনের ভেতর—ফুটবল-উন্মাদ বাংলাদেশের পথে।

এ ঘটনার সত্যতা বুঝতে হলে চট্টগ্রামের সিআরবির ফাইনালের রাতটার কথা মনে করতে হবে। স্পেন গোল দেওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। হাজার হাজার মানুষ, মোবাইল নেটওয়ার্কও ডাউন। অন্ধকারে একজন চিৎকার করে উঠল, আর্জেন্টিনা গোল দিছে! দুই মিনিট পর আরেকজন বলল, আরেকটা! ২-০!

ব্যস! অন্ধকারেই শুরু হয়ে গেল উল্লাস। কেউ লাফাচ্ছে, কেউ আলিঙ্গন করছে, কেউ আবার স্ট্যাটাস লিখে ফেলেছে, ‘অভিনন্দন চ্যাম্পিয়ন!’ গুজব এমন গতিতে ছড়াল যে সবাই ধরে নিল আর্জেন্টিনা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু যখন বিদ্যুৎ ফিরে এল, তখন দেখা গেল স্কোরবোর্ডে স্পেন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে!

যে সিআরবিতে একটু আগেও উৎসব হচ্ছিল, সেখানে এমন নীরবতা নেমে এল, যেন পরীক্ষার হলে ইনভিজিলেটরের মুঠোফোন বেজে উঠেছে।

তাই কুকুরেয়া বুঝেছিলেন, পৃথিবীতে বিশ্বকাপ ট্রফির সবচেয়ে বড় শত্রু চোর নয়—ফুটবল সমর্থকদের কল্পনাশক্তি। সেই কারণেই তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ট্রফিটাকে সবচেয়ে সস্তা নিরাপত্তাব্যবস্থায়—একটা সাধারণ প্লাস্টিকের পলিথিনে করে বাড়ি নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

About Editor Todaynews24

Check Also

আয়কর রিটার্ন তৈরিতে ১০টি সাধারণ ভুল, ভুলগুলো কী

বর্তমানে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। গতবার ৪৭ লাখ টিআইএনধারী অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *