সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / আমরা ১০ জন
আমরা ১০ জন

আমরা ১০ জন

সকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন জামা পড়ে রেডি হলাম, উদ্দেশ্য বগুড়া ‘ছোট খালামণির বাসা’। মা-বাবা আমি আর ছোট বোন সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। যেতে বেশি সময় লাগল না। তবে ছোট খালামণির বাসায় যাওয়ার আগের রাতে মায়ের সঙ্গে বাবার মনোমালিন্য হয়। তাই বাবা আমাদের বগুড়া নামিয়ে দিয়ে নিজে একা একাই ঘুরতে বের হন। অনেকবার তাঁকে থেকে যাওয়ার কথা বলা হলেও তিনি শুনেন নাই। আমরাও তাঁকে আর বাঁধা দিলাম না।

আমার রওনা হয়েছিলাম সকাল ৮টা ১০ মিনিটে আর পৌঁছালাম ৯টায়।

বাসায় ঢুকেই খাবার টেবিলে চোখ পড়ল হাঁসের মাংস ভুনা, চিংড়ি মাছভুনা, পটোল ভাজি, মুরগির মাংসভুনা, লালশাক ভাজি, ডিমভুনা, বড় মাছ পিঁয়াজি, ভাত আরও কত কী!!

তাড়াতাড়ি হাত–মুখ ধুয়ে খেতে বসলাম।

আহ্‌!! মজা।

খাবার শেষে একটু বিশ্রাম নিলাম।

আমার একমাত্র ছোট মামা বউ–বাচ্চা নিয়ে বগুড়াতেই থাকেন। তাই তাঁদেরও ফোন করে ছোট খালামণির বাসায় আসতে বলা হলো।

সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম।

খাবার টেবিলেই ঠিক হলো আমার এখন ‘মহাস্থানগড়’ ঘুরতে যাব।

তাই তড়িঘড়ি করে সবাই রেডি হলাম। আমি, মা, ছোট বোন, ছোট খালামণি, ছোট খালামণির তিন মেয়ে, মামা, মামি, আর আমার মামাতো বোন।

আমরা ১০ জন।

সেদিন ছোট খালুর একটা কাজ থাকায় তিনি আমাদের সঙ্গে যেতে পারেননি।

আমাদের সঙ্গে যেহেতু দুজন ছোট বাচ্চা আছে, তাই তাদের জন্য পানি, কলা, পেয়ারা, কেক, চিপস নেওয়া হলো।

আমরা বের হয়ে পড়লাম। ছোট খালামণির বাসা থেকে মহাস্থানগড় প্রায় ৪০ মিনিটের রাস্তা।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com

আমি বাসে যেতে আগ্রহী নই।

তাই ঠিক হলো সিএনজিতে যাওয়া হবে।

তবে মামা বাদে আমরা সবাই মেয়ে মানুষ।

মামা কোনো মতেই আমাদের একা ছাড়বেন না।

তাই একটা সিএনজি নেওয়া হলো। মামা, মামাতো বোনকে নিয়ে সামনে ড্রাইভারের কাছে বসলেন। আর গাড়ির পেছনের তিন সিটের জায়গায় মা, ছোট খালামণিসহ আমরা আটজন বসলাম।

এভাবে বসামাত্রই বুঝলাম, আগামী ৪০ মিনিট যেন ৪০ ঘণ্টার সমান হবে।

গাড়ি ছাড়ল। রাস্তা আর শেষ হয় না!!!

একচুলও নড়াচড়া করতে পারছি না। পা-কোমর যেন ব্যথায় অবশ হয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা এই কষ্ট ভুলতে আড্ডা দেওয়া শুরু করলাম।

অবশেষে মহাস্থানগড় পৌঁছালাম। গাড়ি থেকে নামা মাত্রই বুঝলাম পা আর কোমরের বেহাল অবস্থা।

তবে তখন এসব না ভেবে আমরা ঘুরতে শুরু করলাম।

গোকুল মেধ, পরশুরামের প্রাসাদ, মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, বৈরাগীর ভিটা, পুণ্ড্রনগর ঐতিহাসিক দুর্গপ্রাচীর, গোবিন্দ ভিটা, খোদার পাথর ভিটা, শাহ্ সুলতান বলখী মাহি সাওয়ার (রহ.) মাজারসহ সব কিছু ঘুরে দেখলাম।

সন্ধ্যা হলে গেল। ঠিক হলো আমরা মামার বাসায় যাব।

কারণ, মহাস্থানগড় থেকে মামার বাসা আগে বের হয়।

ফিরতি পথে মহাস্থানগড়ের বিখ্যাত ‘কটকটি’ কেনা হলো।

আবার সেই এক সিএনজিতে ১০ জন!! ভাবতেই পা আর কোমরের ব্যথাটা যেন জেগে উঠল।

তবে মামা এখন ছয় সিটের সিএনজি ভাড়া করলেন। মামাতো বোনকে নিয়ে মামা সামনে বসলেন আর আমরা ছয় সিটে আটজন বসলাম।

আল্লাহর রহমতে মামার বাসায় পৌঁছালাম।

মামি বাসায় এসেই ফ্রেশ হয়ে আমাদের জন্য রাতের খাবার রান্না করলেন।

ভাত, মাছ, মাংস।

আমরা সবাই একে একে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেলাম।

খাবার খাওয়া শেষে জমে উঠল আমাদের আড্ডা।

মা, মামা, খালামণি আর আমরা।

অনেক রাত পর্যন্ত আমরা আড্ডা দিলাম।

দিনটা ছিল অসাধারণ।

গাড়িতে একটু কষ্ট হলেও আনন্দ হয়েছে দ্বিগুণ।

আর এই স্মৃতি আমার আজীবন মনে থাকবে।

অন্যদিকে আমার বাবা সারা দিন একা একাই ঘুরছেন। তিনি খালামণির বাসায় না গিয়ে সন্ধ্যার পর আমাদের বাসায় ফিরেছেন।

তবে দিনটা আমরা অনেক উপভোগ করেছি। একদিকে যেমন আনন্দ করেছি অন্যদিকে বাবা আর ছোট খালুকে মিস করেছি।

About Editor Todaynews24

Check Also

স্পেনে দাবানলে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি

স্পেনে দাবানলে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি

ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ঘরবাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ সম্পূর্ণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *