শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে চুরি হয়েছে—এমন অভিযোগে এক নারীকে (৫৬) বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। পরে আহত নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্যার নেতৃত্বে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের অভিযোগ। ওই ঘটনায় আজ রোববার ভেদরগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই নারীকে প্রকাশ্যে মারধর করা হচ্ছে, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভেদরগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর স্বামী বাড়িতে থাকেন। ওই দম্পতির ছেলেমেয়েরা ঢাকায় থাকেন। ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্যার বাড়ি থেকে সম্প্রতি টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়। চোর শনাক্ত করার জন্য স্থানীয় এক ফকিরের কাছ থেকে রুটিপড়া এনে বৃহস্পতিবার দুপুরে তা ওই নারীকে খাওয়ানো হয়। এরপর ওই নারী কিছুটা অসুস্থ বোধ করেন। এরপর আনোয়ার হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসেন। আনোয়ারের বাড়ির আঙিনায় তাঁকে মারধর করা হয়। বেধড়ক মারধর করার পর নার্গিসের স্বজনেরা জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানায়। পুলিশের সহায়তায় স্বজনেরা ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
ওই নারীকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বয়স্ক এক নারীকে কয়েকজন মানুষ মিলে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। আর কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে তা দেখছেন। আর ওই নারী তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চিৎকার করে কান্নাকাটি করছেন।
মারধরের খবর পেয়ে ভুক্তভোগী নারীর সন্তানেরা বাড়িতে আসেন। তাঁর এক ছেলে বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন, তাঁর সহযোগী রাজন খান, আয়নাল হক, রানা ও দেলোয়ার সরদারের নামে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ আজ মামলাটি নথিভুক্ত (রেকর্ড) করেছে।
মামলার বাদী বলেন, তাঁর মায়ের কোনো অন্যায় থাকলে তাঁকে আইনের আওতায় দিতে পারত। একজন বয়স্ক নারীকে প্রকাশ্যে মারধর ও হেনস্তা কেন করা হলো? ওই ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতি করেন। ওই প্রভাবেই এমন করেছেন। এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে মামলা না করার জন্য, ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগী নারীর পুত্রবধূ বলেন, ‘আমার শাশুড়ি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিক রোগী। বৃহস্পতিবার তিনি ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফেরার পর তাঁকে ফকিরের পড়া রুটি জোর করে খাওয়ানো হয়। এরপর তিনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমার শাশুড়িকে চোর আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। আমাদের ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। এ কারণে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে ছাড়াতে গেলে আমাদেরও মারধর করা হয়।’
মারধরের শিকার নারী শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক ইলিয়াস হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর অবস্থা ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে, শরীর এখনো দুর্বল। তিন-চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।
মামলা করার পর বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন ও তাঁর লোকজন এলাকা থেকে চলে গেছেন। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, চোর সন্দেহে এক নারীকে মারধর করা হচ্ছে, এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেছে। ওই নারীর ছেলে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।