৭৫তম মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আগামীকাল ভিয়েতনামের উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছেন সামানজার সাঈদ
‘ছোটবেলা থেকেই সুন্দরী প্রতিযোগিতা দেখতে ভালো লাগত। তবে কখনো ভাবিনি, নিজেই এমন একটি মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পাব।’ গতকাল প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন সামানজার সাঈদ। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। রোববার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে শুরু হবে মিস ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক আসর। তাতে যোগ দিতে আগামীকাল শনিবার হ্যানয়ের পথে যাত্রা করেবেন সামানজার।
উড়াল দেওয়ার আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বনানীতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের আয়োজক আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প। সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সামানজার সাঈদ।
বিশ্বমঞ্চে নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মেলে ধরতে চান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘একটাই চাওয়া, মঞ্চে উঠে নার্ভাস হয়ে যেন নিজের সামর্থ্য ভুলে না যাই। এত দিন যা শিখেছি, যেসব দক্ষতা অর্জন করেছি, সেগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরতে চাই। গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই এখন আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’

বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন—স্বপ্নেও ভাবেননি সামানজার সাঈদ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করার পর কৌতূহল থেকেই নাম লিখিয়েছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায়। প্রথমবার অংশ নিয়েই জিতে নিয়েছেন মুকুট।
সামানজার বলেন, ‘এপ্রিলে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করি। এরপর জুলাইয়ে নিবন্ধন করি। শুরুতে শুধু ভেবেছিলাম, চেষ্টা করে দেখি কী হয়। একের পর এক ধাপ পার হয়ে যখন বিজয়ী হলাম, তখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।’
বিজয়ী হওয়ার পর ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা নিয়ে গ্রুমিং করেছেন সামানজার সাঈদ। প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। নানা পেশা ও অভিজ্ঞতার মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, শিখেছেন নিজেকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করতে।
তিনি বলেন, ‘এখানে এসে বুঝেছি, এটি শুধু সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়। নিজের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও তুলে ধরতে হয়। এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে।’

চার বছর কথক ও ভরতনাট্যম শিখেছেন। গান, নাচ ও খেলাধুলা—সবকিছুর প্রতিই আগ্রহ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার চাপের কারণে বেশ কিছুদিন নিজের পছন্দের কাজগুলো থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টানা চার বছর পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছি। তাই অনেক শখই পিছিয়ে রাখতে হয়েছে।
প্রতিযোগিতা শেষ হলে আবার সেগুলোতে ফিরতে চাই। অভিনয়েরও ইচ্ছা আছে। ভালো কোনো গল্প বা চরিত্রের প্রস্তাব এলে অবশ্যই কাজ করতে চাই।’
ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই তরুণী অবসরে চলচ্চিত্র দেখতে ভালোবাসেন। পাশাপাশি বাস্কেটবল ও টেবিল টেনিস খেলতে পারেন।

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬–এর নাম ঘোষণা করা হয় গত ১১ জুলাই। এবারের বিজয়ী সামানজার সাঈদ বিদায়ী মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৫ আকলিমা আতিকা কনিকার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্বাগতা সাহা এবং দ্বিতীয় রানারআপের খেতাব অর্জন করেছেন লাবিবা মনজুর। শীর্ষ পাঁচে বাকি দুই প্রতিযোগী ছিলেন আয়শা রহমান ও যুক্তা ভৌমিক।
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শেষ হবে মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬।