রাজধানীর বনানীতে প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে সোনার গয়না কেনার চেষ্টার সময় গ্রেপ্তার মো. রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে (৪৬) দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুম্মান খান বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আদালতে শুনানিতে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বনানী সুপার মার্কেটের মনিমালা জুয়েলার্স নামের অলংকারের দোকানে ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন রুবেল আহম্মেদ ও তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি। তাঁরা তাঁদের ভাগনির বিয়ের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার কথা বলে কর্মচারীদের বিভিন্ন ডিজাইনের গয়না দেখাতে বলেন। একপর্যায়ে আসামিরা প্রায় ২০–২১ ভরি স্বর্ণালংকার পছন্দ করেন এবং তা বিল ও প্যাক করতে বলেন। সোনার পরিমাণ ও দাম অনেক বেশি হওয়ায় মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম ফোন করে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, মালিকের আসতে দেরি হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হলে রুবেল তাঁর সঙ্গে থাকা ১৬ ইঞ্চি লম্বা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। নোটগুলো পরীক্ষা করে কর্মচারীদের সন্দেহ হয় এবং তাঁরা সেগুলো জাল টাকা বলে নিশ্চিত হন। বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই আসামি ট্রলি ব্যাগ ও টাকা ফেলে রেখে দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে আসামি রুবেলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাঁকে পিটুনি দেন। তবে তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি কৌশলে পালিয়ে যান।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে রাত পৌনে আটটার দিকে বনানী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ সময় পুলিশ এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে সর্বমোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট ও একটি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করে। এ ঘটনায় আজ মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার আসামিসহ দুজনের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় মামলা করেন।
রিমান্ড আবেদনে বনানী থানার এসআই ও তদন্ত কর্মকর্তা জুম্মান খান উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জাল টাকার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। তাই জাল টাকা উৎপাদন ও সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিত করা, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই চক্রের অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামি রুবেল আহম্মেদ একজন পেশাদার জাল নোট চক্রের সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর, পল্টন, গুলশান, উত্তরা–পশ্চিম এবং নেত্রকোনা, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় জাল নোট তৈরি, প্রতারণা, মানি লন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে।