রাজশাহীর পবাতে ৯ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুক (৪২) নামের জামায়াতের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একটি ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর রুকন।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাতে তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুর রহমান বলেন, ওমর ফারুক ওয়ার্ড পর্যায়ের রোকন এবং তাঁর ভাই আবু বকর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। তাঁর দাবি, ঘটনাটি দুই মাস আগের এবং দুই পরিবারের মধ্যে মীমাংসা হয়েছিল। বিএনপির লোকজন বিষয়টি বড় করে পুলিশকে ডেকেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিজ বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন।
বাড়ি ফিরে শিশুটি মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে ঘটনাটির কথা জানায়।বিষয়টি অভিযুক্তের বাবাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন শিশুটির মা। তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ১২ জুলাই শিশুটি পড়তে গেলে অন্য শিক্ষার্থীদের কৌশলে বিদায় করা হয়। শিশুটিকে একা পেয়ে যৌন হয়রানি করেন ওমর ফারুক। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে ঘটনাটির কথা জানায়।
বিষয়টি অভিযুক্তের বাবাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন শিশুটির মা। তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। পরে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে এবং অভিযুক্তকে আটক করে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
দুই মাস আগে অভিযোগ ওঠার পরও সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তিনি বিষয়টি গতকালই জেনেছেন। দায়িত্বশীলদের জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা গতকাল রাতে থানায় এসে মামলাটি দায়ের করেন বলে জানান পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন। তিনি বলেন, ওই মামলায় ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।