সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / পাবনার শহরের পথে পথে গর্ত আর পানি, দুর্ভোগ
পাবনার শহরের পথে পথে গর্ত আর পানি, দুর্ভোগ

পাবনার শহরের পথে পথে গর্ত আর পানি, দুর্ভোগ

বড় বড় গর্তে ভরা সড়ক, বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি আর কাদাময় পথ—এমন চিত্র এখন পাবনা পৌর শহরের অনেক এলাকার। দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না হওয়া ও ড্রেনেজ (পানিনিষ্কাশন) ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, স্থবির হয়ে পড়েছে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক খাইরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুরোনো ড্রেন সংস্কার ও নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙা রাস্তাগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছেন খুব দ্রুতই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

গতকাল সোমবার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, আতাইকুলা সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, দিলালপুর, রাধানগর, শালগাড়িয়া মহল্লার তারক প্রামাণিক সড়ক, শিবরামপুর মহল্লার বড় বাজার সড়কসহ শহরের অলিগলির অধিকাংশ রাস্তাই বড় বড় গর্তে ভরপুর। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। এর মধ্যেই রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। বেশ কিছু সড়ক নর্দমার ময়লা-আবর্জনা ও কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে, যা মাড়িয়েই বাধ্য হয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা আলো আক্তার বলেন, ‘পানিতে রাস্তা ডুবে থাকায় বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া-আসা নিয়ে চরম অশান্তিতে আছি। রিকশাও পাওয়া যায় না, আবার স্কুলড্রেস পরে বাচ্চারা এই নোংরা পানি মাড়াতেও পারে না।’

আতাইকুলা সড়কের রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন জানান, পানির নিচে গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই রিকশার চাকা নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।

শহরের বিভিন্ন মহল্লার অন্তত ১৫ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাবনা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সেবার মান হতাশাজনক। রাস্তাঘাট সংস্কার না হওয়ায় এবং পয়োনিষ্কাশনের নালাগুলো ময়লা-আবর্জনায় আটকে থাকায় পানি সরতে পারছে না। এ ছাড়া শহরের অধিকাংশ পুকুর ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ এবং পানিনিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ইছামতী নদী বর্জ্যে ভরাট হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বৃষ্টির পর কোনো কোনো এলাকায় পানি নামতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগছে। কিছু এলাকায় তৈরি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা।

শহরের কালাচাঁদ পাড়া মহল্লার তেল মিল ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে কালাচাঁদ পাড়া-বড় বাজার সড়ক অন্যতম। কিন্তু সড়কটি দীর্ঘদিন মেরামত না করায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক মিলে আসতে পারছে না। এতে মিলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা মেহেদি খন্দকারের মতে, তাঁদের রাস্তাটি ও নালাগুলো দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় তাঁরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নালাগুলো ভেঙে পড়ায় পানিনিষ্কাশন হচ্ছে না। বৃষ্টিপাত শুরুর পর থেকেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে। নালা থেকে ময়লা–আবর্জনা রাস্তায় উঠে আসে। এসব মাড়িয়েই তাঁদের চলতে হয়।

শহরের রাস্তা বেহাল ও সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এ বি এম ফজলুর রহমান। তিনি আরও বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও পাবনা পৌরসভার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন নেই।

About Editor Todaynews24

Check Also

প্রকৃতির প্রতি যত্ন- টেকসই ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা

আমরা যদি প্রকৃতিকে রক্ষা না করি, তবে মানবজাতিসহ পৃথিবীর সকল জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে, পরিবেশ দূষণ কমাতে হবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে প্রকৃতি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *