সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / হামলার বিচার না হলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার
হামলার বিচার না হলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার

হামলার বিচার না হলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার

রাজশাহীতে ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতির বাড়িতে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডি এম জিয়াউর রহমান। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে তিনি ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন। তা না হলে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ওই নেতা।

গতকাল শুক্রবার রাতে বাগমারা উপজেলার চানপাড়া এলাকায় ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিকের বাড়িতে ককটেল হামলা হয়। এ সময় কয়েকটি গুলিও ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে কেউ হতাহত হননি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার দুপুরে পৌর বিএনপি বিক্ষোভ-মিছিল ও পথসভার আয়োজন করে। পৌর বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পথসভার সভাপতিত্ব করেন ভবানীগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির প্রার্থী জিয়াউর রহমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি যখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন ফ্যাসিস্ট ও রাজাকার–আলবদরদের একটি সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেব, আপনি নিজেকে কী মনে করেন, আমার জানা নাই। আমি উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলাম। নির্বাহী অফিসারের ক্ষমতা সম্পর্কে আমার জানা আছে। অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে এই বোমা হামলার যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হয়, আমি জিয়াউর রহমান জিয়া বলছি, আপনাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিলাম। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আপনি যে বিচার করলেন না, আপনার বিচারসহকারে ওই দুষ্কৃতকারীদের বিচার করব।’
এ সময় সঙ্গে থাকা অন্য নেতা-কর্মীরা ‘ঠিক’ বলে জিয়াউর রহমানের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মসূচি শেষে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন জিয়াউর রহমান। সেখানে প্রশাসনকে এড়িয়ে গিয়ে হামলার জন্য তিনি আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আমি ঘটনা জানার পরে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করছে, হামলাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তবে বিএনপি নেতার হুমকির বিষয়ে অবহিত আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’

বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, একটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামতও পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

About Editor Todaynews24

Check Also

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বড় নিয়ামক হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বড় নিয়ামক হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ

আজবাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অন্যতম বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন। শুধু নয়াদিল্লি ও ঢাকার সিদ্ধান্ত নয়, কলকাতার রাজনীতিও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।শনিবার বিকেলে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’ সম্মেলনের একক বক্তৃতায় সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সেন্টার…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *