সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / গুগল সার্চে ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাস, ব্রাজিলে শীর্ষে মেসি
গুগল সার্চে ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাস, ব্রাজিলে শীর্ষে মেসি

গুগল সার্চে ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাস, ব্রাজিলে শীর্ষে মেসি

ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে গত রোববার। গুগল ট্রেন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে হিসাব করলে এবার বিশ্বকাপ ঘিরেই বিভিন্ন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের টুর্নামেন্ট নিয়ে সার্চ প্রায় দ্বিগুণ (৯৪ শতাংশ) বেড়েছে।

বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও গুয়াতেমালাতেই জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ বিশ্বকাপ নিয়ে খোঁজ (সার্চ) করেছেন। আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয় মেক্সিকোতে। কানাডায় সার্চের সংখ্যাটা মেক্সিকোর ৬২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ছিল ৪৭ শতাংশ।

ব্রাজিলের ইএসপিএম (ইসকোলা সুপিরিয়র দে প্রোপাগান্ডা ই মার্কেটিং)–এর ক্রীড়া বিপণনবিষয়ক অধ্যাপক ইভান মার্তিনিওর মতে, এটি বিশ্বকাপকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে পরিণত করতে ফিফার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন, অন্যদিকে টুর্নামেন্টকে ঘিরে দর্শকের আচরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

মার্তিনিওর ভাষায়, ‘আগে বিশ্বকাপ ছিল মূলত সম্প্রচারের একটি পণ্য। মানুষ খেলা দেখত, পরে তা নিয়ে আলোচনা করত, রাস্তাঘাট সাজাত, দলকে সমর্থন দিত। এখন এটি অংশগ্রহণের আয়োজন। মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত জানাতে চায়, নিজেরা কনটেন্ট তৈরি করে, আর স্পনসর ব্র্যান্ডগুলোও সেই আলোচনায় যুক্ত হয়। এখন বিশ্বকাপ শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নেই।’

মার্তিনিওর মতে, ব্রাজিলে এবার মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে সম্প্রচারের বৈচিত্র্যের কারণে। গ্লোবো, এসবিটি, ইউটিউব, ক্যাবল টিভি ও বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ ছিল।

বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার ট্রফি হাতছাড়া হলেও ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচ দলের তারকা এবং টুর্নামেন্টের অন্যান্য আলোচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে সার্চের গড় হিসাবে মেসি সবার ওপরে।

ফাইনালে হারের পর মেসি

ফাইনালের দিন (১৯ জুলাই) মেসিকে ঘিরে সার্চ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। স্পেনের বিপক্ষে সে ম্যাচে তাঁকে আটকে রাখা হলেও পুরো টুর্নামেন্টে মেসির ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। আর্জেন্টিনার আক্রমণ গড়ে তোলায় তাঁর মুখ্য ভূমিকার কারণেই মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

মার্তিনিও বলেন, ‘মেসির ব্যক্তিত্ব ও ক্যারিয়ার ব্রাজিলিয়ানদের কাছে সব সময়ই আকর্ষণীয়। তিনি এমন সব ক্লাবে খেলেছেন, যেগুলোর ব্রাজিলে বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। এটি যেহেতু তাঁর শেষ বিশ্বকাপ ছিল, তাই মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেকটা জনপ্রিয় কোনো ধারাবাহিক নাটকের শেষ পর্ব দেখার মতো। প্রত্যেক ব্রাজিলিয়ানই চাইতেন, মেসি যদি আর্জেন্টিনার না হয়ে ব্রাজিলের হয়ে খেলতেন!’

মেসির পর ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে নরওয়ের আর্লিং হলান্ডকে। শেষ ষোলোতে তাঁর জোড়া গোলে ব্রাজিল বিদায় নেয়। হলান্ডকে নিয়ে তৈরি হওয়া নানা মিম ও কৌতূহল তাঁকে দীর্ঘ সময় আলোচনায় রেখেছিল। নরওয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হওয়ার পর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত একসময় সার্চের হিসাবে মেসিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন হলান্ড।

ব্রাজিলে সার্চে তৃতীয় ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মেসির মতো তিনিও খেলেছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। তবে শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে তাঁর বিশ্বকাপযাত্রা শেষ হয়।

পরের স্থানে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২২ গোল) হয়েছেন। এরপর আছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শৈশবে মেসির সঙ্গে তোলা বিখ্যাত গোসলের ছবিটি এবং তাঁর তিন বছর বয়সী ভাই কেইনের ভাইরাল হওয়া ভিডিও–ছবিও তাঁকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

ব্রাজিলে সার্চের তালিকার একেবারে শেষ দিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে হারালেও তিনি মাঠে নামেননি।

হ্যারি কেইনের ঠিক ওপরে ছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে অনেকের চোখে তিনিই ছিলেন এবারের আসরের অন্যতম বড় আবিষ্কার।

About Editor Todaynews24

Check Also

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ গণতন্ত্রের জয়: সোনম ওয়াংচুক

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ গণতন্ত্রের জয়: সোনম ওয়াংচুক

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেছেন, এটি শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয়। রাজপথের আন্দোলন থেকে এই বিজয় এসেছে।আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াংচুক লেখেন, ‘এটি গণতন্ত্রের জয়, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের জয়, যা সরাসরি রাজপথ থেকে অর্জিত।’এনইইটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ককরোচ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *