সর্বশেষ খবর
Home / Uncategorized / ইরানের জবাব পছন্দ হয়নি ট্রাম্পের, বেড়েছে তেলের দাম

ইরানের জবাব পছন্দ হয়নি ট্রাম্পের, বেড়েছে তেলের দাম


ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা: সৌদির কৌশলী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড মুনাফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলার জবাবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথগুলোতে জাহাজে হামলার হুমকির ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই সংকটকে পাশ কাটিয়ে বিশ্বের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো তাদের মুনাফার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের ‘আরামকো’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল খাতের অভাবনীয় উত্থান বিশেষ নজর কেড়েছে।

আরামকোর অভাবনীয় মুনাফা ও কৌশলী পাইপলাইন

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকো জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি-মার্চ) তাদের আয় গত বছরের (২০২৫) একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগরসহ বিভিন্ন নৌ-পথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা যখন সংকটে, তখন সৌদি আরামকো তাদের বিকল্প পাইপলাইন নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়েছে। আরামকোর প্রধান আমিন নাসের একে ‘গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ধমনি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সমুদ্রপথের ঝুঁকি এড়িয়ে নিজস্ব পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ করার ফলে প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই এড়াতে পেরেছে।

ইউরোপীয় জায়ান্টদের লাভ

মুনাফার এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই ইউরোপের কোম্পানিগুলোও। গত মাসে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (BP) জানিয়েছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একইভাবে আরেক বিশ্বখ্যাত জ্বালানি কোম্পানি ‘শেল’ (Shell) তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। মূলত সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কোম্পানিগুলোর জন্য তা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘পোয়াবারো’ ও নতুন বাজার দখল

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক দশক আগেও (২০১৪ সালের আগে) যারা জ্বালানি তেলের বাজারে আমদানিনির্ভর ছিল, তারা এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান নিট রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলে। বিশেষ করে লোহিত সাগর হয়ে তেলের জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো এখন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধের সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব জ্বালানি বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নিতে শুরু করেছে।

উপসংহার

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত একদিকে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য খুলে দিয়েছে বিশাল মুনাফার দুয়ার। সরবরাহ রুটের পরিবর্তন এবং নতুন বাজার দখলের এই লড়াই বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রকে নতুন করে বদলে দিচ্ছে

About Editor

Check Also

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, উপসাগরীয় দেশগুলোয় যে প্রভাব পড়ছে

Today News 24 | মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বড় ধাক্কা, চাপে কাতারের অর্থনীতি ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তীব্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *