সর্বশেষ খবর
Home / আন্তর্জাতিক / “ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য: ‘ফিনিশ দ্য জব, দে ওয়ান্ট টু ডাই’
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

“ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য: ‘ফিনিশ দ্য জব, দে ওয়ান্ট টু ডাই’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘ফিনিশ দ্য জব, দে ওয়ান্ট টু ডাই’। তিনি অবরুদ্ধ ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজায় দখলদার ইসরাইলের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প এই নির্দেশ এমন এক সময় দিলেন, যার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘অত্যন্ত কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ড সফরে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,‘আমার মনে হয়, ওরা (হামাস) মরতে চায়, আর সেটা খুবই, খুবই দুঃখজনক। কাজটা শেষ করতেই হবে’।

চরম মানবিক সংকটেও সামরিক অভিযানে ‘সমর্থন’

ট্রাম্প এই নির্দেশ এমন এক সময় দিলেন, যার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘অত্যন্ত কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের একটি নাটকীয় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা গাজাকে ‘জীবন্ত লাশে ভরা অঞ্চল’ হিসেবে বর্ণনা করছেন এবং দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা দিচ্ছেন।

এদিকে গত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের দোহায় চলমান মার্কিন-মধ্যস্থতাকারী যুদ্ধবিরতি আলোচনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘হামাসের মধ্যে আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে’ এবং এখন যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথে জিম্মিদের মুক্তির চেষ্টা করবে।

এদিকে ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, আলোচনাগুলো ‘একেবারেই ভেঙে পড়েনি’ এবং একটি নতুন চুক্তির জন্য এখনো পথ খোলা আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, হামাস বাস্তবতায় ফিরে আসবে, যাতে বাকি ফারাকগুলো দূর করা যায়’।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করে বলছেন, হামাসের হাতে থাকা অনেক জিম্মি ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে বা নিহত হয়েছে। যার ফলে তারা আর আলোচনায় চাপ তৈরি করতে পারছে না।

তিনি হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়নি’।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের (ইসরাইল) লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, শেষ করতে হবে সব কিছু… তাদের সরিয়ে দাও’।

নেতানিয়াহুকে ঘিরে ক্ষোভ

ট্রাম্পের বক্তব্যে এও ইঙ্গিত মিলেছে যে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তার বিরক্তি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথন ছিল ‘হতাশাজনক’।

তবে, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্প মাসখানেক আগেও বলেছিলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি হতে পারে’। কিন্তু সর্বশেষ বক্তব্যে আলোচনা স্থগিত করে হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পুনরায় আলোচনা শুরুর কোনো সম্ভাব্য লক্ষণ নেই।

বক্তব্যে আশা, বাস্তবে যুদ্ধ

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সিএনএন-কে বলেন, ট্রাম্প ও উইটকফ ‘অনেক কৌশল’ জানেন এবং তারা খুবই ‘চালাক’। তারা এই খেলায় জড়িত সব পক্ষকে ভালো করেই চেনেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সবশেষ বক্তব্য কৌশলগতভাবে হামাসকে চাপ দেওয়ার জন্য হতে পারে—তবে এটাও হতে পারে যে, কূটনীতি এখন সেনাবাহিনীর পেছনে পড়ে গেছে।

About todaynews24

Check Also

নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতির শপথ দুপুরে

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকার্য পরিচালনা করতে প্রাথমিকভাবে ২ বছরের জন্য ২৫ জনকে অতিরিক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *