রাজশাহীর বাগমারায় রবি মওসুমের এলাকার প্রধান অর্থকারী ফসল আলুচাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে এই এলাকায় আলু লাভজনক হওয়ায় এই অঞ্চলের মওসুমের জনপ্রিয় ফসল আলু। কিন্তু এবারে আলুচাষে বীজ সংকট, সারের মূল্য বৃদ্ধি ও মজুরী খরচ বেশি পড়ায় ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
জানা যায়, বাগমারা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আলুচাষের মাটি উপযোগী। উর্ব্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় এলাকায় প্রচুর পরিমাণে আলু চাষ হয়। উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাগমারা এলাকায় উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। তবে এবারের আলু চাষ শুরুর পর কৃষকরা জানিয়েছেন, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বীজ বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, তারা সরকার বা কোম্পানির নির্ধারিত দামে আলুবীজ পাচ্ছেন না। বেশি দামে তাদের বীজ ও সার কিনতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার বালানগর, দেউলিয়া, মোহম্মাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, আলুর বীজ ও সার কিনতে তাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। যেমন- ব্র্যাক সিডের গ্র্যানুলা, কারেজ, বারি আলু-৬২ ও এস্টেরিক্স জাতের আলুর বীজ ৩ হাজার ১৮০ টাকা দরে পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাজারে এসব বীজের দাম ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
একইভাবে সারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমওপি ও ডিএপি সারের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে প্রতি বস্তায়। এতে স্থানীয় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকে স্টোরের রাখা আলুই বীজ হিসেবে ক্রয় করতে স্টোরে ছুটছেন।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কৃষকরা বুকভরা আশা নিয়ে আলু চাষে নেমেছেন। এবার আলু উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ কাজ করছে। বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি এবং সেচের মতো মৌলিক উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষের খরচ এখন আকাশছোঁয়া হয়েছে।
যদিও খরচের চাপ এবং সরবরাহ সংকট কৃষকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তবুও তাদের শ্রম ও মনোবল এসব বাধাকে অতিক্রম করছে।
কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, সার্বিক পরিস্থিতি ঠিক থাকলে এবারও আলুর ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।
বাজারে আলুর চাহিদা বেশি থাকায় বীজ বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। উন্নত জাতের ৪০ কেজি আলু বীজ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা কোম্পানির নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৮০০ টাকা বেশি। একইভাবে, প্রতি বস্তা সারও ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে।
এদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। জমি চাষ এবং বীজ রোপণের কাজে শ্রমিক পেতে বাড়তি টাকা দিতে হলেও তাও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।