কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা একটি অসমাপ্ত সমকালীন উপন্যাস ‘লীলাবতী’। প্রাচীন গণিতবিদ ভাস্করাচার্যের কন্যা লীলাবতীর গল্প ও লেখকের নানাবাড়ির স্মৃতিকেন্দ্রিক রহস্যময় পরিবেশের অনুপ্রেরণায় এটি রচিত।
‘লীলাবতী’ উপন্যাসটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে ঝালকাঠি বন্ধুসভা। ২৭ জুলাই বিকেলে জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এই আসর বসে।
পাঠ আলোচনায় বন্ধু উজ্জ্বল রহমান বলেন, ‘লীলাবতী’ উপন্যাসটিতে হুমায়ূন আহমেদ সরল বাক্যে গভীর অনুভূতি প্রকাশ করার মাধ্যমে জীবনের জটিল সত্যগুলো তুলে ধরেছেন। এ কারণে কাহিনি ও চরিত্র এই উপন্যাসে অনেক সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে।

বন্ধু আরিফুর ইসলাম বলেন, ‘লীলাবতী’ উপন্যাসে বেশ কয়েকটি চরিত্র থাকলেও সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে সিদ্দিকুর রহমান, আনিস সাহেব, লীলাবতী ও রমিলা। অন্য চরিত্র, যেমন মঞ্জু মামা, জইতরী, কইতরী, মাসুদ, পরীবানু, লোকমান ও সুলেমান কাহিনির পরিপ্রেক্ষিতে উপন্যাসে উপস্থিত থাকলেও ভালো ও খারাপ মিলিয়ে মোটামুটি তাদের নিয়ে অনুভূতি মিশ্র।
বন্ধু রোহান বিন নাসির বলেন, ‘বইয়ের নাম “লীলাবতী” হলেও আমার কাছে মূল চরিত্র লীলাবতী থেকে সিদ্দিকুর সাহেব বেশি আকর্ষণীয় লেগেছে। কারণ হচ্ছে, তার বিচক্ষণতা ও চিন্তাশীল মনোভাব। উপন্যাসে সে ভালো–খারাপ যে কর্মই করুক না কেন, সেসবের পেছনে থাকে নিজস্ব যুক্তি এবং প্রতিটি কর্মের পেছনে প্রকাশ পায় তার চিন্তাশীল মনোভাব, যা তার চরিত্রকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলে।’
বন্ধু ফাহিমা আক্তার বলেন, আনিস সাহেবের চরিত্র পুরোপুরি ভালো না লাগলেও তাকে খারাপের কাতারে ফেলা যায় না। তার উপস্থিতি উপন্যাসে একেক সময় একেকভাবে পাঠকের আকর্ষণ টানতে সক্ষম হয়েছে।

বন্ধু শাকিল রনি বলেন, মানুষের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় না। প্রকৃতি শেষ পর্যন্ত নিজের ইচ্ছাতেই সিদ্ধান্ত নেয়। তেমনি এক কল্পকাহিনি নিয়ে লেখা বই ‘লীলাবতী’। এখানে প্রতিটি চরিত্রের নিজ জীবন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা থাকলেও একসময় সবার পরিকল্পনার ওপর দিয়ে বয়ে যায় প্রকৃতির সিদ্ধান্ত, যা এই উপন্যাসকে জীবন্ত করে তুলেছে।
‘লীলাবতী’ উপন্যাস নিয়ে বিশ্লেষণ ও আলোচনায় পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক বাস্তবতা ও মানসিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরেন বন্ধুরা। আলোচকদের মধ্যে থেকে সেরা তিনজনকে বই উপহার দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন আরিফুর ইসলাম, রোহান বিন নাসির ও ফাহিমা আক্তার।
সাধারণ সম্পাদক রাহাত মাঝির সঞ্চালনায় পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মার্জিয়া আক্তার, ম্যাগাজিন সম্পাদক সৈয়দ হান্নান, প্রচার সম্পাদক শাহরিয়ার সিমান্ত, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক আন্না ইসরাত, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহারিয়ার পাপন, বন্ধু রিয়াদ আবদুল্লাহ, সাকিবসহ অন্য বন্ধুরা।
সভাপতি, ঝালকাঠি বন্ধুসভা