সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / শিক্ষা থেকে পদত্যাগ করলেও ধর্মেন্দ্রকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চেয়েছিল মোদি সরকার, রাজি হয়নি ‘তেলাপোকারা’
মোদি সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী জেন-জি নেতাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে নয়; বরং শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

শিক্ষা থেকে পদত্যাগ করলেও ধর্মেন্দ্রকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চেয়েছিল মোদি সরকার, রাজি হয়নি ‘তেলাপোকারা’

রাজধানী দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে টানা আন্দোলন করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সিজেপির নেতৃত্বে জেন–জি প্রজন্মের তরুণদের আন্দোলনের মুখে গত শনিবার পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে মন্ত্রিসভা থেকে তাঁকে সরাতে শুরুতে রাজি ছিল না ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

একটি সূত্র জানায়, আন্দোলনের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী জেন–জি নেতাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে নয়; বরং শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সরকারের এ প্রস্তাবে সায় দেননি।

সূত্র জানায়, সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। আলোচনার একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এ দুই প্রতিনিধি আন্দোলনকারীদের কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বদলে দপ্তর বদলানোর প্রস্তাব রাখেন।

২০ জুলাই জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং প্রথমবার সিজেপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ওই সময় পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল ডেকেছিল সিজেপি। এ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির রাজপথে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক দমন–পীড়ন চালানো হচ্ছিল।

সূত্রটি জানিয়েছে, অচলাবস্থা নিরসনের উপায় হিসেবে জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বৈঠকে অংশ নেওয়া সিজেপির প্রতিনিধি সৌরভ দাস আর আশুতোষ রাঙ্কা সরাসরি তা নাকচ করে দেন।

বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সিজেপির প্রতিনিধিদের জানানো হয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অপসারণ করা বা দপ্তর পরিবর্তন করা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

সূত্রটি জানিয়েছে, সিজেপির প্রতিনিধিরা তাঁদের দাবিতে অটল ছিলেন। তাঁরা জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে। এটা ছাড়া অন্য কোনো কিছু মানা হবে না। আপস করবে না সিজেপি।

সূত্রটি আরও জানায়, সিজেপির প্রতিনিধিদের আশঙ্কা ছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে রাজি হলে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার আর সিজেপির প্রতিনিধিদের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠকের কথা ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা আগে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সিজেপি রাজপথের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।

বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীও শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর বদলানোর বিপক্ষে ছিলেন। তখন তিনি বলেন, দপ্তর বদলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভায় রেখে দিলে সেটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিরোধী দল—কেউই মানবে না। তিনি শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবিতে সরব ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে হাজারো তরুণের বিক্ষোভ

রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার প্রতীক। তাঁকে সরে যেতেই হবে।’

নিজের পদত্যাগপত্রে সদ্যবিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে ‘দেশবিরোধী শক্তিগুলো’ যাতে ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে জন্য তিনি পদত্যাগ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা দুই পাতার একটি পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছিলেন, ‘যাতে যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ দেশবিরোধী শক্তিগুলো নিতে না পারে, যাতে দেশের ঐক্য অটুট থাকে, যাতে ভারতের একজন শিক্ষার্থীরও ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতার মধ্যে না পড়ে এবং যাতে আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনায় সময় দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিবেচনা করেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও মেনে নিয়েছে।

ভারতে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) সরকারের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রহ্লাদ যোশীকে নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আগে থেকে কেন্দ্রীয় ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

About Editor Todaynews24

Check Also

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন সুবিধা

‘প্রাইভেট ভিউ কাউন্টস’ সুবিধা চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *