আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), চার দিনের আবাসন মেলা, কর্মচারী নিয়োগ, চাকরিচ্যুতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের একাংশের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এমন নির্দেশনা দিল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে শুনানি হবে।
অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে রিহ্যাব সভাপতিকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিহ্যাবের সহসভাপতি মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ পরিচালনা পর্ষদের ১০ জন সদস্য ২৬ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। এতে আর্থিক অনিয়মসহ ১২টি বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ২২ জুলাই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া সংগঠনের তহবিল থেকে সভাপতি আলী আফজাল ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাকের যৌথ স্বাক্ষরে দুই কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়া গত তিন মাসে তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই ব্যয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় পেশ করে অনুমোদন নেননি তাঁরা।
এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে রিহ্যাবের স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসসহ ১০ জন অভিযোগকারী। তাঁদের অভিযোগ, সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সুযোগ না দিয়ে নিজেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নিয়োগ দিয়েছেন সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। এর বাইরে কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি, রিহ্যাব কার্যালয়ের গোপন তথ্য ফাঁস, ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বাতিলসহ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে রিহ্যাবের সভাপতি মো. আলী আফজাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব কটি অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েই আমরা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছি। একইভাবে অনুমোদন নিয়েই বিভিন্ন বিষয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আমরা তথ্য-প্রমাণসহ বিস্তারিত তুলে ধরব।’
প্রসঙ্গত, আগামী শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লুতে রিহ্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া আগামী ১২ আগস্ট ঢাকার শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলা শুরু হওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। যদিও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এসব আয়োজন এখন অনিশ্চিত।