দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ধানুশ রাজনীতিতে আসছেন, এমন গুঞ্জন আলোচনায় এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি অভিনেতা। তবে তাঁর ফ্যান ক্লাবগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ধানুশ তাঁদের সামাজিক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা সবাই এখানে একত্র হয়েছেন। এভাবে একসঙ্গে হতে পারাটাই আমাদের শক্তি। এই শক্তিকে একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্যে কাজে লাগান এবং মানুষের পাশে দাঁড়ান। আরও জনকল্যাণমূলক কাজ করুন। প্রতিবেশীদের সমস্যাগুলো জানুন, তাঁদের একজন হয়ে পাশে দাঁড়ান এবং সাহায্য করুন।’
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রবেশ নতুন নয়। রজনীকান্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি ‘আধ্যাত্মিক রাজনীতি’র কথা বললেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। অন্যদিকে অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক দল গঠনের পর দক্ষিণের আরেক বড় তারকা হিসেবে ধানুশকে নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
ধানুশের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক বক্তব্যের শেষে তিনি ‘ওম নমঃ শিবায়’ উচ্চারণ করায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ধানুশের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নিয়ে ৯ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে বলা হয়, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধানুশের বাবা নির্মাতা কস্তুরি রাজাকে তাঁর ছেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এর আগে কস্তুরি রাজা মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসতে পারেন। তবে ধানুশকে নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
কস্তুরি রাজা বলেন, ‘আগেও বলেছি, এই প্রশ্ন ধানুশকেই করা উচিত।’
একই প্রতিবেদনে ধানুশের ফ্যান ক্লাবের নেতা ও পরিচালক সুব্রামানিয়াম শিবার বক্তব্যও উঠে আসে। ধানুশের ফ্যান ক্লাবের পতাকা ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো রাজনৈতিক পতাকা নয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে বিয়ে, কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠান, সিনেমার মুক্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই পতাকা ব্যবহার করে আসছেন ভক্তরা। চলতি বছরের ফ্যান ক্লাব সভার জন্য গাড়িতে ব্যবহারের সুবিধার্থে পতাকার আকার ছোট করে তৈরি করায় অনেকে এটিকে নতুন রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছেন।

ধানুশের রাজনীতিতে প্রবেশের গুঞ্জন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে বলেছে, ‘যে কেউ রাজনীতিতে আসতে চাইলে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবাই অংশ নিতে পারেন।’
তবে আপাতত ধানুশের মূল মনোযোগ সিনেমাতেই। আগামী কয়েক বছরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প। ফলে ফ্যান ক্লাবের তৎপরতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ালেও ধানুশ নিজে এখনো রাজনীতিতে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি।