সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / মাঠের ‘দানব’ হলান্ড যখন ইনস্টাগ্রামের ‘পুকি’
মাঠের ‘দানব’ হলান্ড যখন ইনস্টাগ্রামের ‘পুকি’

মাঠের ‘দানব’ হলান্ড যখন ইনস্টাগ্রামের ‘পুকি’

মাঠের ভেতর আর্লিং হলান্ডকে ভয় পান না, এমন খুব কম খেলোয়াড়ই আছেন। ভয় পাবেন না–ইবা কেন? মাঠের ভেতর এই দেখবেন হাঁটছেন, চলছেন। ভয়ের তো তেমন কিছুই নেই। হুট করে এমন একটা দৌড় দেবেন হলান্ড, ডিফেন্স ভাঙচুর করে, ডিফেন্ডারদের মাঠে ছুড়ে ফেলে ঠিকই আদায় করে নেবেন গোল। সুযোগ পেলেই হলান্ড তাণ্ডব চালান প্রতিপক্ষে ডিবক্সে। সেই হলান্ডকে ভয় না পেয়ে উপায় আছে বলো?

মাঠের ভেতরে থাকা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির হলান্ড আবার মাঠের বাইরে একদম ‘পুকি’। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার শুধু অপেক্ষা করেন রেফারির বাঁশি বাজার, এরপর তাঁকে চেনাই যেন দায়। মাঠের ভেতরে খেলার মধ্যে খুনসুটি করেন জুড বেলিংহামের সঙ্গে। প্রতিপক্ষ হলেই–বা কী? একসঙ্গে খেলেছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে। সেই বন্ধুত্ব তো আর ফুরায় না। তাই তো মাঠের মধ্যেই কর্নারে খোঁচানো শুরু করলেন বেলিংহামকে। কে বলবে তাঁদের দেখে, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল চলছে সেখানে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মতো রসিক খুব কম মানুষই আছেন। আর হলান্ডের রসিকতার দেখা মেলে সবার সঙ্গে। বাকি খেলোয়াড়েরা যখন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন স্পনসর আর নিজেদের ছবি দেখাতে, হলান্ড ব্যবহার করেন যেভাবে ব্যবহার করা উচিত ছিল সবার, ঠিক সেভাবেই।

হলান্ডকে সবচেয়ে বেশি সরব দেখা যায় স্ন্যাপচ্যাটে। স্ন্যাপচ্যাটে এমন কিছু নেই, যা নিয়ে গল্প করেননি। ফ্রান্সের খেলার সময় এমবাপ্পের ছবি স্টোরিতে দিয়ে লিখেছেন, ‘ওর জন্য আমার আর গোল্ডেন বুট পাওয়া হলো না।’ মেসির হ্যাটট্রিকের পর লিখেছেন, মেসি তো উন্মাদের মতো খেলছে। ব্রাজিলের সঙ্গে ২ গোল করে স্টোরিতে লিখেছেন, ‘একটু ক্লান্ত লাগছে তো, যাই ঘুমাই।’

বিশ্বকাপের মধ্যে বানিয়েছেন নিজের ভ্লগ, আপলোড করেছেন ইউটিউবে। পুরোদস্তুর ইউটিউবার হলান্ড প্রতিদিনই ইনস্টাগ্রামে কোনো না কোনো স্টোরি দিয়েছেন। তাঁর মতো সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা খেলোয়াড় নেই বললেই চলে।

আর ইনস্টাগ্রামে সেলিব্রিটি আর সাধারণ মানুষের পার্থক্য ভেঙে দিয়েছেন হলান্ড। ইনস্টাগ্রামের রিলসে স্ক্রল করলেই খুঁজে পাওয়া যায় তাঁকে। কারও রিলস পছন্দ হলে শুধু লাইক দিয়ে থেমে থাকেন না, কমেন্টে লিখে দেন ‘নাইস’। কেউ রিলস বানাচ্ছেন, লিখছেন হলান্ড যদি কমেন্ট করেন, তাহলে আমি সারা দিন পড়ালেখা করব। হলান্ড কমেন্ট করে লিখেছেন, ‘আমি কমেন্ট করেছি এবার পড়ো।’

শুধু তা–ই নয়, হলান্ডকে মেনশন করে কোনো কমেন্ট করলেও সেখানে হাজির হয়ে যান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন পরিণত হয়েছে একটা নিখুঁত ফ্রেমে। ছবিতে নিজেকে ভালো না দেখালে সেই ছবি জায়গা পায় না সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রতিটি পোস্ট দেওয়া হয় ভেবেচিন্তে, যেন কোনো খুঁত না থাকে। সেলিব্রিটি হলে তো আরও সমস্যা, প্রতিটি লেখা থাকে আতশি কাচের নিচে। পান থেকে চুন খসলেই আলোচনা-সমালোচনা। হলান্ড সেই বাধা ভেঙে দিয়েছেন পুরোপুরি, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিখুঁত থাকার চেয়ে দরকার উপভোগ করা, নিজেকে প্রকাশ করা। যে কারণে শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার, সেটাই যেন হারিয়ে গেছে সবকিছুর ভেতরে। আর্লিং হলান্ড আলোচিত হয়ে উঠেছেন সে কারণেই।

About Editor Todaynews24

Check Also

হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জের পরিবেশ বিপন্ন করবে এক্সপ্রেসওয়ের নতুন র‍্যাম্প

হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জের পরিবেশ বিপন্ন করবে এক্সপ্রেসওয়ের নতুন র‍্যাম্প

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এফডিসি-পলাশী সংযোগ সড়ক নির্মাণে হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ পার্কের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ ও নগর–পরিকল্পনাবিদেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *