সর্বশেষ খবর
Home / জাতীয় / রাজনীতি / ভিসা বন্ডের আড়ালে ট্রাম্পের এ কোন রাজনীতি
ভিসা বন্ডের আড়ালে ট্রাম্পের এ কোন রাজনীতি

ভিসা বন্ডের আড়ালে ট্রাম্পের এ কোন রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা ট্রলিতে করে নিজেদের লাগেজ নিয়ে যাচ্ছেন। ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, নিউইয়র্ক

বিশ্বজুড়ে অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের নীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক বছর পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে দেশটি বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন ও চিকিৎসা) ভিসার ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে চালু করেছে ‘ভিসা বন্ড’ নীতি। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনকেন্দ্রিক কঠোর নীতির ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য এই নীতির আওতায় নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার আগে ১০ হাজার, ১৫ হাজার কিংবা সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা রাখতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ থেকে ২৪ লাখ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার (ওভার স্টে) প্রবণতা কমানোই এই নীতির উদ্দেশ্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে এলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, আর ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

প্রথম দৃষ্টিতে বিষয়টি প্রশাসনিক ব্যবস্থা বলে মনে হলেও, এর প্রভাব শুধু অভিবাসনব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক চলাচল, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নতুন এক বাস্তবতার দিকেও ইঙ্গিত করছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কেবল ওভার স্টে ঠেকানোর উদ্যোগ, নাকি ভিসানী তিকে কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতির আরও কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নতুন অধ্যায়?

২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ভিসা বন্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল এমন আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করা, যাঁদের ক্ষেত্রে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন বা ওভার স্টের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে বিবেচিত হয়। পাইলট পর্যায়ে বন্ডের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার। স্থায়ী নীতিতে সেই সীমা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বন্ড সবার ক্ষেত্রে আরোপ করা হবে—এমন নয়। ভিসা সাক্ষাৎকার শেষে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে একজন কনস্যুলার কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেবেন বন্ড প্রয়োজন হবে কি না এবং হলে কত হবে।

মার্কিন প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা ওভার স্টের হার তুলনামূলক বেশি এবং যেসব দেশ নিরাপত্তা বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করে না, মূলত সেসব দেশের নাগরিকদের এই নীতির আওতায় আনা হয়েছে।

তালিকায় থাকা দেশগুলোর বড় অংশ আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল অঞ্চলের।

তবে এখান থেকেই নীতিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি ওভার স্টের হারই অন্যতম মানদণ্ড হয়, তাহলে ইউরোপের কিছু দেশ বা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? অনেক দেশই ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির আওতায় থাকায় তাদের নাগরিকদের জন্য তুলনামূলক সহজ প্রবেশাধিকার বহাল রয়েছে।

কিছু বিশ্লেষকের মতে, পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বৃহত্তর নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির বিবেচনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতিকে অন্তত তিনটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা যায়।

ক. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটারদের বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বরাবরই একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হোক বা কংগ্রেস নির্বাচন, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন এবং ভিসা অপব্যবহার প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে।

এমন প্রেক্ষাপটে ভিসা বন্ড নীতিকে অনেকেই ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করা বা ভিসা কঠোরভাবে সীমিত করার মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তার বদলে ভিসা বন্ড এমন একটি ব্যবস্থা, যা একদিকে কঠোরতার বার্তা দেয়, অন্যদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ ভ্রমণের পথও খোলা রাখে।

এতে মার্কিন প্রশাসন বলতে পারে—ভিসা বন্ধ করা হচ্ছে না; বরং ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক নিশ্চয়তা নেওয়া হচ্ছে।

জেএফকে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে বেসরকারি ঠিকাদারদের কর্মীরা যাত্রীদের তল্লাশি করছেন। ২৭ মে ২০১৬, নিউইয়র্ক

খ. কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের উপায়

যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই ভিসা নীতিকে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। নিষেধাজ্ঞা, ভিসা সীমাবদ্ধতা কিংবা বিশেষ শর্ত আরোপ, সবই কখনো কখনো বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে ওঠে।

ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর কয়েকটির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তারা বহিষ্কৃত নাগরিকদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে অনাগ্রহী কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে প্রত্যাশিত সহযোগিতা করে না।

এই বাস্তবতায় ভিসা বন্ড শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের আর্থিক দায় নয়; সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যও এটি একটি নীতিগত বার্তা। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এ ধরনের নীতির মাধ্যমে ওয়াশিংটন অংশীদার দেশগুলোকে অভিবাসন ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় আরও সক্রিয় হতে উৎসাহিত করতে চায়।

গ. ব্যয় কমানো ও ‘ইউজার পে’স নীতি

প্রতিবছর বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজন হলে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়।

ভিসা বন্ড সেই ব্যয়ের একটি অংশ আগেভাগেই আর্থিক নিশ্চয়তার মাধ্যমে সুরক্ষিত করার চেষ্টা। অর্থাৎ সম্ভাব্য ঝুঁকির আর্থিক দায় করদাতাদের বদলে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণকারীর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।

এ কারণে অনেক নীতি বিশ্লেষক এই ব্যবস্থাকে ‘ইউজার পে’স নীতির একটি সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ কোনো সেবা বা ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য ব্যয় করদাতাদের ওপর না চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর কাছ থেকেই আগাম আর্থিক নিশ্চয়তা নেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি হলো, কেউ যদি ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেন, তাহলে তাঁকে শনাক্ত, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি অংশ এই বন্ডের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে।

সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে

যদিও বন্ডটি ফেরতযোগ্য, তবু বাস্তবে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার দীর্ঘ সময়ের জন্য জমা রাখা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব। ফলে অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ী, চিকিৎসাপ্রার্থী কিংবা পর্যটক ভ্রমণের সিদ্ধান্তই পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

এটি শুধু ব্যক্তিগত ভ্রমণ ব্যয় বাড়াবে না; ব্যবসায়িক যোগাযোগ, সম্মেলনে অংশগ্রহণ কিংবা চিকিৎসা–ভ্রমণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভিসা বন্ড নীতির প্রভাব শুধু আবেদনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

বন্ডের অর্থ জোগাড়ের জন্য কেউ কেউ বিকল্প বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের পথ খুঁজতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করতে আরও সময় লাগবে।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা, গবেষক কিংবা পেশাজীবীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সম্মেলন, প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক সফর থেকে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এসব দেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও জ্ঞান বিনিময়ের গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ হলেও বাড়তি আর্থিক শর্তের কারণে মধ্যবিত্ত পর্যটকদের একটি অংশ বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে পারেন।

এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও সেবা খাতেও পড়তে পারে। অবশ্য সেটি কতটা বড় হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

বাংলাদেশ কেন তালিকায়

এই তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে সাধারণ ভ্রমণকারী, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসাপ্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। তবে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবেগ নয়, তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) ২০২৪ অর্থবছরের ওভার স্টে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর বি-১/বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বাংলাদেশের ৩৮ হাজার ৫৯০ জনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ২১৩ জন সময়মতো দেশ ছাড়েননি। অর্থাৎ এই ভিসা শ্রেণিতে বাংলাদেশের ওভার স্টের হার ছিল ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর মধ্যে ২ হাজার ১৬২ জন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন, আর ৫১ জনের দেশত্যাগের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

কেবল পরিসংখ্যানই কি কারণ? এখানেই বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে শুধু ওভারস্টের পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন—মানবাধিকার, আঞ্চলিক কৌশল এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনীতি—এগুলোও বৃহত্তর সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।

তবে এ কথাও সমানভাবে উল্লেখ করা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা বন্ড আরোপের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণের কথা বলেনি। তাদের সরকারি ব্যাখ্যা মূলত ওভার স্টে, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ওপরই কেন্দ্রীভূত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাইরের অংশ। ১১ জুলাই ২০২৫, ওয়াশিংটন ডিসি

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্যও প্রথম কাজ হওয়া উচিত ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত ও তথ্যভিত্তিক সংলাপ বৃদ্ধি করা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা।

বিশেষ করে প্রকৃত ব্যবসায়ী, চিকিৎসাপ্রার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বন্ডের পরিমাণ কমানো বা বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিদেশে স্বল্পমেয়াদি ভিসায় যাওয়া নাগরিকদের তথ্য ব্যবস্থাপনা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা জোরদার করা যেতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক অধিকারের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ভিজিটর ভিসায় গিয়ে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার চেষ্টা কিংবা ভিসার উদ্দেশ্য পরিবর্তনের প্রবণতা শেষ পর্যন্ত পুরো দেশের নাগরিকদের জন্যই ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করে তোলে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যম, ট্রাভেল এজেন্সি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।

আজকের বিশ্বে ভিসা নীতি শুধু অভিবাসনের বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিরও অংশ।

বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কঠোর নীতির ঝুঁকিও কমতে পারে।

ভিসা এখন রাজনীতির হাতিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ভিসা বন্ড নীতি আধুনিক বিশ্বের অভিবাসন–ব্যবস্থায় একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এটি কেবল অতিরিক্ত আর্থিক শর্ত নয়; বরং ভিসা নীতিকে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার একটি উদাহরণ।

ওয়াশিংটনের দাবি, এই নীতির উদ্দেশ্য ওভার স্টে কমানো এবং করদাতাদের অর্থ সুরক্ষা করা। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে উন্নয়নশীল বিশ্বের নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক চলাচলে নতুন ধরনের আর্থিক বৈষম্য তৈরি হবে এবং বৈধ ভ্রমণও নিরুৎসাহিত হতে পারে।

ভিসা বন্ড নীতি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় এখনই স্পষ্ট, ভিসা আর শুধু ভ্রমণের অনুমতিপত্র নয়; এটি এখন ক্রমেই ভূরাজনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কার্যকর এক হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।

(সূত্র: তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ২০২৪ অর্থবছরের এন্ট্রি/এক্সিট ওভারস্টে রিপোর্ট, রয়টার্স, সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।)

About Editor Todaynews24

Check Also

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ, ৫ দফা দাবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ, ৫ দফা দাবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অন্যান্য ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *