সর্বশেষ খবর
Home / World / Sports / ভিনিসিয়ুস কি রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়বেন
ভিনিসিয়ুস কি রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়বেন

ভিনিসিয়ুস কি রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়বেন

রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান লিগ থেকে মোটামুটি বড়সর একটা বাজি ধরেই ভিনিসিয়ুসকে কিনেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ৯ বছর ধরে তার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যুব দল থেকে মূল দলে এসেছেন। শুরুটা কঠিন হলেও বয়সের সঙ্গে শাণিত হয়েছেন। পৃথিবীর যেকোনো দল এখন ভিনির মুখোমুখি হওয়ার আগে দুবার ভাবে। সেই ভিনি কেন রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার কথা ভাবছেন?

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখনকার সময়ের সেরা তারকা। গত ছয় বছরে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদকে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন, দুই ফাইনালেই আছে গোল। ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হয়েছেন, ফিফা বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে এবারের বিশ্বকাপটাও কাগজে-কলমে খুব একটা খারাপ যায়নি তাঁর। এককথায় ক্যারিয়ারে পূর্ণতা পেতে যা যা লাগে, রিয়ালের সাদা জার্সিতে ভিনিসিয়ুসের সবটাই পাওয়া হয়ে গেছে।

২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন ভিনি।

কিন্তু ফুটবলারদের ক্যারিয়ার তো আর চেকবক্স নয় যে সব পূর্ণতা পেলেই ইতি টানতে হবে। রিয়ালের সঙ্গে ভিনির বন্ধনটা ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু সব শুরুর তো শেষ থাকে, ভিনির বোধহয় বিদায়ের করুণ সুর বেজে উঠল বলে। এর কারণ নতুন রিয়াল মাদ্রিদের উত্থান। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে দলের ভেতরের পরিবর্তন।

করিম বেনজেমা চলে যাওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ কাগজে-কলমে হয়ে উঠেছিল ভিনিসিয়ুসের দল। তাঁকে কেন্দ্র করেই দল সাজাতেন কার্লো আনচেলত্তি, ভিনিকে কেন্দ্র করেই গড়া হতো আক্রমণভাগ। কিন্তু সেই নকশায় ছেদ পড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে আসার পর। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় যখন আক্রমণভাগে থাকেন, তখন নকশায় বদল আসা স্বাভাবিক। সেই পরিবর্তনটাই যেন সব সমস্যার মূল।

ভিনির সঙ্গে দারুণ ছিল বেনজেমার রসায়ন

ভিনিসিয়ুস-এমবাপ্পে দুজনই দলের মুখ হতে চেয়েছেন শুরু থেকে। দুজনের জন্য সমান জায়গা ছেড়ে প্রথম মৌসুমে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু ব্রাজিলের কোচ হওয়ায় রিয়ালের চাকরি ছেড়ে দিতে হয় তাঁকে। সেই জায়গায় এলেন জাবি আলোনসো। তাঁর চোখে ভিনিসিয়ুসের থেকে এমবাপ্পের গুরুত্ব বেশি। ফর্মে থাকা ভিনিকে তুলে নেওয়া হতো ৭০ মিনিটের মধ্যেই, এমবাপ্পে ফর্মের বাইরে থেকেও খেলতেন পুরো সময়। এল ক্লাসিকোতে ভিনিসিয়ুসকে বদলি করা নিয়ে শুরু হলো ঝামেলা, সেখান থেকে রিয়াল মাদ্রিদের ফর্মেও ঘাটতি। অতঃপর জানুয়ারি মাসে বরখাস্ত হলেন জাবি, তাঁর জায়গায় এলেন আলভেরো আরবেলোয়া।

তিনি আবার এমবাপ্পের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন ভিনিসিয়ুসকে। ভিনির ওপর ভর করে চ্যাম্পিয়নস লিগে বেশ ভালোই করছিলেন তিনি। দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু এমবাপ্পে আসতেই খেই হারিয়ে ফেললেন আরবেলোয়া। যে দল টানা জয়রথ চালাচ্ছিল, শিরোপার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিল, সেই দল পথ হারিয়ে ফেলল এমবাপ্পে আসতেই। মৌসুম শেষে আরবেলোয়ার বিদায়, দলে আসলেন জোসে মোরিনহো।

মোরিনহো এখনো দলকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি। কিন্তু এমবাপ্পে-ভিনি জটিলতার কথা খুব ভালোভাবেই বোঝার কথা। দলে যখন দুজন তারকা থাকেন, তখন তাঁদের মধ্যে ভিন্ন একটা দ্বন্দ্ব থাকা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত মোরিনহো এমন দ্বন্দ্ব সামলে এসেছেন বহুবার। ইতিহাস বলে, এসব ব্যাপার তাঁকে খুব একটা বিচলিত করে না। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়।

ভিনি-এমবাপ্পের সম্পর্কটা মধুর নয়।

ভিনিসিয়ুসের চুক্তির বাকি আছে মাত্র এক বছর। জানুয়ারি মাস থেকেই চাইলে নতুন কোনো দলের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন তিনি। সেক্ষেত্রে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা তারকাকে বিনা মূল্যে ছেড়ে দিতে হবে রিয়াল মাদ্রিদকে। আর সেটা যদি হয়, তাহলে ওৎ পেতে আছে বহু দল। রিয়াল তাই চায়, তাদের সোনার ডিমপাড়া হাঁস এই দলেই থাকুক। তাই তো চুক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টা। কিন্তু চুক্তির সঙ্গে বেতনও তো বাড়াতে হবে।

ভিনির দাবি, এমবাপ্পের সমান বেতন চাই তাঁর। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক নয়, এমবাপ্পে বিশ্বকাপ জিতলেও রিয়াল মাদ্রিদের ‘নম্বর ৭’ আরও দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন। তাঁর জন্য বছরে ৩০ মিলিয়ন খরচ করাটা খুব একটা বেশি নয়। এখন তিনি বেতন পান ১৫ মিলিয়ন ইউরো, যা এমবাপ্পে, আলাবার মতো খেলোয়াড়দের থেকে অনেক কম। সেই বেতনটাকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতেই যত আলোচনা।

আলোচনার টেবিলে রিয়াল বেঁকে বসে আছে অনেক আগেই। এত টাকা দিতে রাজি নন সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। নতুন নির্বাচন জিতে তিনি দলবদলের বাজারে নেমেছেন বস্তা নিয়ে। কিন্তু ভিনির ব্যাপারে যেন টাকাশূন্য। আর এই শূন্য হাতটাই অন্য দলের দিকে হাত বাড়াতে বাধ্য করেছে ভিনিকে।

আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতার সঙ্গে ভিনির জমবে বেশ।

আর সেই তালিকায় সবার আগে আছে আর্সেনাল। ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে আর্সেনাল, চ্যাম্পিয়নস লিগে হয়েছে রানার্সআপ। টাকাপয়সা নিয়েও খুব একটা সমস্যা নেই। খরচ করার মতো অঢেল অর্থ আছে তাদের হাতে। আক্রমণভাগে নেতা হওয়ার মতো একজনকে প্রয়োজন তাদের। বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিবেন যিনি। ভিনির সেই যোগ্যতা আছে। এ ছাড়া আর্সেনালের পুরো প্রজেক্ট তৈরিই হবে ভিনিকে কেন্দ্র করে, ফলে দলের মেইন ম্যান রোলে তাঁর আশপাশে থাকবে না কেউ। ইতিমধ্যে কমবেশি বড় বড় সব ইংলিশ দলের মুখোমুখি হয়েছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে। গোল-অ্যাসিস্টের রেকর্ডটা ঈর্ষণীয়। ফলে মানিয়ে নেওয়া বা প্রমাণ করার খুব একটা কিছু নেই।

সেই সঙ্গে মাথায় আছে বর্ণবাদের বিষয়টিও। স্পেনে যে পরিমাণ বর্ণবাদের শিকার হন ভিনিসিয়ুস, ইংল্যান্ডে তা কখনোই হবেন না। বরং ইংলিশ ভক্তদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক। এমনকি ভিনিকে যখন মাঠে নাচার কারণে গালমন্দ করা হয়েছে স্পেনে, আর্সেনাল নিজেদের টুইটার (বর্তমান এক্স) থেকে ভিনিকে সমর্থন করে টুইটও করেছে। অন্যদিকে সেই সময় ভিনির নাচ নিয়ে অনেক রিয়াল ভক্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। সব মিলিয়ে ভিনি আর আর্সেনাল যেন মিলে গিয়েছে খাপে খাপ।

আর্সেনাল এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব পাঠায়নি রিয়াল মাদ্রিদে। তবে গুঞ্জন আছে ভিনির জন্য নিজেদের দলবদলের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে আর্সেনাল। এমনকি ফরাসি ফুটবল মিডিয়া টেলিফুটবলের দাবি, ভিনিকে সর্বোচ্চ বেতন দেওয়ার কথাও ভাবছে আর্সেনাল, তবে টাকার অঙ্কটা এখনো জানা যায়নি। তবে ভিনিকে ফ্রিতে পেতে চাইলে অপেক্ষা করতে হবে আরও একটা মৌসুম। অন্যদিকে আবার স্কাইস্পোর্টস বলছে, ভিনি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, ভিনিকে যে ক্লাব বড় করেছে, সেই ক্লাব ছেড়ে খুঁজে নিতে হবে নতুন গন্তব্য। দুটি একত্রে সম্ভব হবে কি না, তা বলা কঠিন। তবে ফুটবলের দুনিয়া বলে কথা, এখানে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

About Editor Todaynews24

Check Also

বিশ্বকাপ ফুটবলে আমরা যা দেখি, তা কতটা সত্য

একটি প্রশ্ন কি কখনো আমাদের ভাবিয়েছে? মাঠে যে ৯০ মিনিট আমরা দেখি, সেটিই কি পুরো সত্য? নাকি সেই দৃশ্যপটের আড়ালেও থাকে আরও বড় কোনো গল্প—যেখানে ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জটিল সমীকরণ। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বকাপ শুধু খেলার ইতিহাস নয়; এটি ক্ষমতার ইতিহাসও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *