সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীসহ সারা দেশে র‍্যাব পুলিশের কড়া নিরাপত্তা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীসহ সারা দেশে র‍্যাব পুলিশের কড়া নিরাপত্তা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীসহ সারা দেশে র‍্যাব পুলিশের কড়া নিরাপত্তা

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিবসটি ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাইবার টহল (প্যাট্রোলিং) জোরদার করা হয়েছে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আগাম তথ্য সংগ্রহে তৎপরতা বাড়িয়েছে।

র‍্যাব জানায়, গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৪ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদাপোশাকে র‍্যাব সদস্যরা নজরদারি চালাবেন। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

র‍্যাবের দাবি, উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে কয়েক দিন আগে থেকেই নজরদারি চালিয়ে আসছেন বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার টহলও বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দিবসটি উপলক্ষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনীটি পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। জননিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করছে বাহিনীটি।

রাজধানীতে ডিএমপির বহুমাত্রিক নিরাপত্তা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সম্ভাব্য নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও তল্লাশিচৌকি জোরদার এবং বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে পিকেট ও তল্লাশিচৌকির তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মহানগরের সব প্রবেশপথে জোরদার তল্লাশি চালানো হবে। একই সঙ্গে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা সাদাপোশাকে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া যেসব স্থানে মানুষের সমাগম বেশি হবে, সেখানে সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রীয়করণ দল ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে বিশেষ তল্লাশি চালানো হবে। সব অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশের নগর বিশেষ শাখা (সিটিএসবি) ও ডিএমপির অভ্যন্তরীণ তদারকি শাখা (আইএডি) সক্রিয় থাকবে।

ডিএমপি জানায়, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি র‍্যাব ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে থেকে দায়িত্ব তদারকি করবেন।

পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা

এর আগে গত শনিবার পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহন হামলার লক্ষ্য হতে পারে উল্লেখ করে দেশব্যাপী সতর্কতা জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ওই বার্তায় বলা হয়েছিল, পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা হতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দায়িত্বরত অবস্থায় কোনো সরকারি যানবাহন থামানোর প্রয়োজন হলে তা নিরাপদ স্থানে পার্কিং করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব শেষে থানা, পুলিশ লাইনস, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়।

গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোস্টেশনের নিচ থেকে একটি ছাতার ভেতরে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ছাতা বেরিয়ে থাকা একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্ক ছড়ায়।

সর্বশেষ গত শনিবার দুপুরে মিরপুর-১০ মেট্রোস্টেশনের দ্বিতীয় তলায় একটি সন্দেহজনক ব্যাগ এবং একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনের নিচতলায় পিলারের পাশে আরেকটি সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যাগ ও বস্তায় বোমা থাকতে পারে সন্দেহে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তবে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করে জানায়, এগুলোতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল না। মূলত এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ওই সতর্কবার্তা জারি করা হয় বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

About Editor Todaynews24

Check Also

উত্তাল সময় জুলাই-আগস্ট

উত্তাল সময় জুলাই-আগস্ট

যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে ১১ তলা বাড়ির ৮ তলায় মা–বাবার সঙ্গে থাকত চার বছরের ছোট্ট আহাদ। একই দিনে তাদের বাড়ির সামনেই চলছিল সংঘর্ষ। আহাদ এ সময় বাড়িতেই ছিল, মা–বাবার পাশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *