Home / সকল আপডেট / কলেজের দুই বন্ধুকে নিয়ে এআই বানিয়ে ২২ বছরেই বিলিয়নিয়ার
কলেজের দুই বন্ধুকে নিয়ে এআই বানিয়ে ২২ বছরেই বিলিয়নিয়ার

কলেজের দুই বন্ধুকে নিয়ে এআই বানিয়ে ২২ বছরেই বিলিয়নিয়ার

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সূর্য মিধা মাত্র ২২ বছর বয়সে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিলিয়নিয়ার হয়েছেন। মার্ক জাকারবার্গের রেকর্ড ভেঙে তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু এআই বিশেষজ্ঞদের সরবরাহকারী মারকোর স্টার্টআপ গড়ে তোলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগে মারকোরের মূল্য ১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছায়। তিন প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যেকের মালিকানা ২২ শতাংশ, ফলে প্রত্যেকে ২২০ কোটি ডলারের মালিক হন।

২২ বছর বয়সে বাংলাদেশের একজন তরুণ কী নিয়ে ব্যস্ত থাকে? হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের পরীক্ষা নিয়ে হিমশিম খায় অথবা সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে প্রথম চাকরির খোঁজ করে। কিন্তু ঠিক এই বয়সেই কেউ যদি নিজের বুদ্ধি ও পরিশ্রমের জোরে আস্ত এক প্রযুক্তিসাম্রাজ্য গড়ে তোলে? শুধু তা-ই নয়, মার্ক জাকারবার্গের মতো সিলিকন ভ্যালির রথী-মহারথীদের রেকর্ড ভেঙে যদি সে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিলিয়নিয়ার হয়ে যায়?

গল্প নয়, একদম নিখাদ বাস্তব কথা বলছি। এই অসাধ্য সাধন করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণ, যাঁর নাম সূর্য মিধা।

সূর্য মিধার শিকড় লুকিয়ে আছে ভারতের দিল্লিতে, তাঁর মা–বাবা সেখান থেকেই পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সূর্যর জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে। বেড়ে ওঠা সিলিকন ভ্যালির প্রাণকেন্দ্র সান জোসেতে। হাইস্কুলে পড়ার সময়ই তাঁর প্রতিভার ঝলক দেখতে পায় সবাই। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় আদর্শ হিরেমাথ নামের আরেক তরুণের সঙ্গে। দুজন মিলে হাইস্কুলের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এমন এক রেকর্ড গড়েন, যা আগে কেউ কখনো করতে পারেনি। এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান জাতীয় পলিসি ডিবেট টুর্নামেন্টের সব কটিতে চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁদের দল! সেখানেই তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন ব্রেন্ডন ফুডি নামের আরেক তুখোড় তরুণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকার পাত্র তাঁরা ছিলেন না। তিন বন্ধু মিলে একটা পাগলাটে সিদ্ধান্ত নিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় ইস্তফা দেবেন! ড্রপআউট হয়ে তাঁরা যোগ দিলেন বিখ্যাত থিয়েল ফেলোশিপে। বলে রাখা ভালো, পেপ্যালের সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েল এই ফেলোশিপের মাধ্যমে মেধাবী তরুণদের পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের উদ্যোগ বা স্টার্টআপ গড়ে তোলার জন্য বিশাল অঙ্কের অনুদান দেন, যেন তাঁরা বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু বানাতে পারেন।

২০২৩ সাল। চারদিকে তখন চ্যাটজিপিটি ও জেনারেটিভ এআইয়ের জয়জয়কার। এই তিন বন্ধু মিলে শুরু করলেন মারকোর (Mercor) নামে একটি স্টার্টআপ। শুরুতে এটি ছিল সাধারণ একটি চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু বুদ্ধিমান উদ্যোক্তারা সব সময় ভবিষ্যতের গন্ধ সবার আগে পান! সূর্য ও তাঁর বন্ধুরা খেয়াল করলেন, এআইয়ের দুনিয়ায় এক বিশাল শূন্যস্থান তৈরি হতে যাচ্ছে।

বড় বড় এআই ল্যাব তাদের ফ্রন্টিয়ার মডেল বা সবচেয়ে অত্যাধুনিক এআইগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সাধারণ কোনো মানুষের খোঁজ করছে না। তাদের দরকার একদম দুর্লভ সব বিশেষজ্ঞ। যেমন নামকরা চিকিৎসক, তুখোড় আইনজীবী, বিজ্ঞানী কিংবা নির্দিষ্ট বিষয়ের ডোমেইন এক্সপার্ট। কারণ, একটি এআইকে যদি নিখুঁত আইনি পরামর্শ বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়, তবে তাকে তো একজন আসল আইনজীবী বা চিকিৎসকের কাছ থেকেই শিখতে হবে!

ব্যস, মারকোর ঠিক এ সুযোগই লুফে নিল। তারা এমন একটা মার্কেটপ্লেস তৈরি করল, যা এই বড় এআই ল্যাবগুলোকে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিশেষজ্ঞদের সরবরাহ করতে শুরু করল। শুনলে তুমি চমকে যাবে, বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটি তাদের বিশেষজ্ঞদের পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতিদিন ১৫ লাখ ডলারের বেশি পরিশোধ করছে!

মারকোরের এই অভাবনীয় ব্যবসায়িক মডেল তাদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা সিলিকন ভ্যালির অনেক বাঘা বাঘা স্টার্টআপেরও স্বপ্নের অতীত। মাত্র দুই বছরের মাথায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ৫০ কোটি ডলারে!

আর সবচেয়ে বড় চমকটা আসে এক মাস পরই, ২০২৫ সালের অক্টোবরে। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৩৫ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল সংগ্রহ করে মারকোর। তখন পুরো কোম্পানির বাজারদর গিয়ে ঠেকে এক হাজার কোটি ডলারে!

কোম্পানিতে তিন প্রতিষ্ঠাতার প্রত্যেকেরই প্রায় ২২ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। সে হিসাবে প্রত্যেকেই রাতারাতি ২২০ কোটি ডলারের মালিক হয়ে যান। তিনজনেরই বয়স তখন মাত্র ২২!

তবে বয়সের হিসাবে অন্য দুজনের চেয়ে মাত্র দুই মাসের ছোট হওয়ায় সূর্য মিধার নামই লেখা হয়ে যায় ইতিহাসের পাতায়। মার্ক জাকারবার্গ ২৩ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন, সূর্য মিধা সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন মাত্র ২২ বছরেই!

About Editor Todaynews24

Check Also

২১ বছর! মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন

২১ বছর! মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন

আমাদের চারপাশে এত এত সত্য ঘটনা, যেসবে সিনেমা বানালে, দর্শকপ্রিয়, সুপারহিট, বাম্পারহিট হবেই—কিন্তু তা নিয়ে সিনেমা বানানো সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *