গত শুক্রবার, ৩১ জুলাই বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিরিজের নতুন মুভি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ২০২১ সালের সুপারহিট ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর পর পিটার পার্কার আবারও বড় পর্দায় ফিরেছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ নিয়ে।
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে (এমসিইউ) টম হল্যান্ড অভিনীত স্পাইডার-ম্যানকে আমরা দেখছি প্রায় ১০ বছর ধরে। এই সময়ে স্পাইডি অন্য দুনিয়ার ভয়ংকর ভিলেনদের সঙ্গে লড়েছে, অ্যাভেঞ্জার্সের সঙ্গে বড় বড় যুদ্ধে অংশ নিয়েছে, আবার নিজের অনেক প্রিয় মানুষকে হারিয়েছে। তবে এবার নতুন কিছু অপেক্ষা করেছে সবার জন্য।
নতুন মুভিতে টম হল্যান্ডের পাশাপাশি জেন্ডায়া তো আছেনই। সেই সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছেন ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর স্যাডি সিঙ্ক এবং ‘দ্য বেয়ার’-এর লিজা কোলন-জায়াস। এ ছাড়া বড় চমক হিসেবে আছে ফ্লোরেন্স পিউ, মার্ক রাফালো এবং জন বার্নথালের মতো তারকারা।
তবে যারা প্রথমবার ‘স্পাইডার-ম্যান’–এর মুভি দেখা শুরু করতে চাও, তারা কি সরাসরি এই নতুন মুভি দিয়েই শুরু করতে পারবে? সত্যি বলতে, ‘স্পাইডার-ম্যান’–এর আসল গল্পটা পুরোপুরি বুঝতে হলে মার্ভেলের ৬টা মুভি দেখতে হয়, যেগুলো শেষ করতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা লেগে যাবে। তবে তুমি যদি অত সময় খরচ না করে সরাসরি নতুন মুভিটি দেখতে চাও, তাহলেও কোনো চিন্তা নেই। নিচের পয়েন্টগুলো জানা থাকলে তুমি সহজেই নতুন মুভিটি উপভোগ করতে পারবে।
১. মেন্টর আয়রন ম্যান
মার্ভেল মুভিতে টনি স্টার্ক; অর্থাৎ আয়রন ম্যানই প্রথম পিটার পার্কারকে সত্যিকারের সুপারহিরো বানিয়েছে। ২০১৬ সালের ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’ মুভিতে টনি প্রথম এই কিশোরের খোঁজ পায় এবং তাকে অ্যাভেঞ্জার্সদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেয়। টনি একটা দারুণ কথা শিখিয়েছিল পিটার পার্কারকে—কেবল সুন্দর পোশাক পরলেই কেউ নায়ক হয়ে যায় না, বরং পোশাকের ভেতরের মানুষটি কেমন, সেটাই তাকে আসল নায়ক করে তোলে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুভিতে পৃথিবীকে বাঁচাতে নিজের জীবন দেয় টনি স্টার্ক। এর পর থেকেই স্পাইডার-ম্যানকে আয়রন ম্যানের সেই অসমাপ্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়।
২. পুরোনো শত্রু ‘স্করপিয়ন’-এর ফেরা
২০১৭ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ মুভিতে পিটার ম্যাক গারগান নামের এক অপরাধীর অস্ত্রের অবৈধ কারবার পণ্ড করে দেয়। ফলে জেলে যায় গারগান। শপথ নেয় প্রতিশোধ নেওয়ার। এত বছর ধরে অন্যান্য বড় ঝামেলার কারণে এই কাহিনি চাপা পড়ে থাকলেও প্রায় এক দশক পর ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে আবার ফিরছে গারগান। এবার সে আসছে এক ভয়ংকর সুপারভিলেন ‘স্করপিয়ন’ রূপে।
৩. আসল পরিচয় ফাঁস
২০১৯ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ মুভিতে পিটার যখন স্কুলের পড়াশোনা আর সুপারহিরো জীবন—দুটিই সুন্দরভাবে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখনই ঘটে এক বড় বিপদ। মিস্টেরিও নামের এক ভিলেন একটা মারাত্মক ড্রোন হামলার দোষ স্পাইডার-ম্যানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। শুধু তা–ই নয়, যাওয়ার আগে সে সারা দুনিয়ার কাছে প্রকাশ করে দেয় পিটার পার্কারই আসলে স্পাইডার-ম্যান। মুহূর্তের মধ্যে পিটারের শান্ত জীবন পুরো ওলটপালট হয়ে যায়। এই বিপদের কারণে এমজে, নেড এবং আন্ট মেকের জীবন পুরো বদলে যায়।
৪. ডক্টর স্ট্রেঞ্জের ভুল
পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার পর বিপদে পড়ে পিটার আর তার বন্ধুরা। তাই সবার মন থেকে এই স্মৃতি মুছে দিতে পিটার ডক্টর স্ট্রেঞ্জের কাছে সাহায্য চাইতে যায়। সে চায়, সবাই যেন ভুলে যায় যে পিটারই আসলে স্পাইডার-ম্যান। কিন্তু স্ট্রেঞ্জ যখন জাদু করছিলেন, পিটার বারবার তাকে নতুন নতুন শর্ত দিয়ে গোলমাল করে ফেলে। ফলে জাদুটি ভেঙে যায় এবং মাল্টিভার্স বা অন্য জগতের সব ভয়ংকর ভিলেনরা এই দুনিয়ায় চলে আসে।
৫. আন্ট মে এবং জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা
অন্য দুনিয়ার ভিলেনদের মেরে না ফেলে পিটার তাদের ভালো করার চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা করতে গিয়ে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। গ্রিন গবলিন নামের এক ভিলেন আন্ট মেকে হত্যা করে। মৃত্যুর ঠিক আগে আন্ট মে পিটারকে বলে যায়, ‘বড় ক্ষমতার সঙ্গেই আসে বড় দায়িত্ব।’ আন্ট মের এই শিক্ষাই পিটারকে সত্যিকারের একজন সুপারহিরো বানিয়ে তোলে।
৬. তিন স্পাইডার-ম্যানের একসঙ্গে লড়াই
অন্য জগতের ভিলেনদের সামলাতে টোবি ম্যাগুইয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের স্পাইডার-ম্যান এসে টম হল্যান্ড অভিনীত পিটারের পাশে দাঁড়ায়। তিনজন স্পাইডার-ম্যান মিলে শত্রুদের মেরে না ফেলে ভালোবাসা ও মায়া দিয়ে তাদের ভালো করে তোলে। তারা পিটারকে বুঝিয়ে বলে প্রতিটি স্পাইডার-ম্যানেরই প্রিয় মানুষ হারিয়ে যায়। কিন্তু রাগ আর প্রতিশোধ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই একজন আসল হিরোর কাজ।
৭. পৃথিবী বাঁচাতে পিটারের সবচেয়ে বড় ত্যাগ
ভিলেনদের ভালো করার পরও পুরো মহাবিশ্ব ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তখন ডক্টর স্ট্রেঞ্জ একটাই সমাধান খুঁজে পান। এমন এক জাদু করা, যাতে দুনিয়ার সব মানুষ পিটার পার্কারের নাম আর মুখটাই ভুলে যায়। মহাবিশ্বকে বাঁচাতে পিটার এই কঠিন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। এই ত্যাগের কারণে পিটারের বন্ধু এমজেসহ তার সব প্রিয়জন তাকে একদম ভুলে যায়। সব হারিয়ে পুরোপুরি একা হয়ে পিটার একটা ছোট ঘরে নতুন জীবন শুরু করে। হাতে সেলাই করা নতুন স্যুট পরে তৈরি হয় নতুন লড়াইয়ের জন্য।
সূত্র: ইয়াহু এন্টারটেইনমেন্ট