সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) জামিন আদেশ দ্রুত পাঠানোর জন্য নীতিমালা নির্ধারণে সাত দিনের মধ্যে কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দেওয়া জামিন আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিমালা ও সময় নির্ধারিত পরিকল্পনা প্রণয়নে কমিটি গঠন বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে সাত আইনজীবী গত মে মাসে রিটটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার।
পরে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখবেন একজন মানুষের আজকে জামিন হচ্ছে, তার আদেশ নিম্ন আদালতে যেতে পনেরো দিন বা এক মাস সময় লাগছে।…আজ জামিন হয়ে গেলে আজ থেকেই তো কার্যকর। এই বিষয়ে দ্রুত সিস্টেম ডেভেলপ (পদ্ধতির উন্নয়ন) করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকার আদালতের আইনজীবীরা মিলে রিট করেন। হাইকোর্ট রুল ইস্যু করেছেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন সাত দিনের ভেতরে কমিটি গঠন করে আদালতকে অবহিত করবেন এবং গাইডলাইন (নীতিমালা) তৈরি করে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে আদালতের কাছে হালনাগাদ তথ্য দেবেন।’
গাইডলাইনের বিষয় হবে কীভাবে রিয়েল-টাইমে আদেশগুলো (জামিনাদেশ) কমিউনিকেট (সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বা পাঠানো) করা যায় বলে জানান রিট আবেদনকারীদের এই আইনজীবী। শিশির মনির আরও বলেন, এটা কি অনলাইন করতে হবে, এটাকে রিয়েল টাইম কমিউনিকেশন বিল্ডআপ করতে হবে, নাকি যেভাবে এখন আদেশ কমিউনিকেশনের পদ্ধতি আছে—এখানে পরিবর্তন আনতে হবে।…ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে একই ধরনের রিট হয়েছিল। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট গাইডলাইনের ভিত্তিতে ভারতে এখন এই আদেশ কমিউনিকেশনের জন্য নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ ও অধস্তন আদালতের দুই আইনজীবীসহ সাত আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। তাঁরা হলেন মো. মিজানুল হক, মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, আবদুল্লাহ সাদিক, যায়েদ বিন আমজাদ, সাব্বির আহমেদ ও মাহমুদুল হাসান।
রিটের প্রার্থনা অনুসারে রুল দেওয়া হয়েছে বলে জানান অন্যতম রিট আবেদনকারী আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে সংরক্ষিত মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিতে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দেওয়া জামিন আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, আইনসচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও কারা মহাপরিদর্শককে রিটে বিবাদী করা হয়।