সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / রাউজানে যুবদল নেতা খুনে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী ইলিয়াস গ্রেপ্তার
রাউজানে যুবদল নেতা খুনে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী ইলিয়াস গ্রেপ্তার

রাউজানে যুবদল নেতা খুনে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী ইলিয়াস গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে শুটার হিসেবে পরিচিত মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইলিয়াস সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

গত ১৩ জুন জেলার রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী প্রকাশ্যে রাস্তায় গুলি করে খুনের মামলার আসামি তিনি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজেও অস্ত্র হাতে তাঁকে দেখা যায়। পাঁচটি হত্যাসহ ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৮টি।

গ্রেপ্তারের পর যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলায় ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা কোর্ট পরিদর্শক হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইলিয়াসকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।

মো. ইলিয়াস

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

পুলিশ জানায়, মামলার আসামি রায়হান চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে নগর, জেলায় খুনসহ নানা অভিযোগে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী রায়হান বাহিনীর সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান ছিল।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, মাসুদুল হক দৌড়াচ্ছেন। পেছনে অস্ত্রধারীরা। হঠাৎ পাহাড়তলীর চৌমুহনী বাজারের একটি দোকানের সামনে রাখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এ সময় পেছনে থাকা অস্ত্রধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি করতে থাকেন। প্রথম দফায় গুলি করে ফিরে যাওয়ার পর ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড পর গাড়িতে না উঠে আবার এসে গুলি করেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে তাঁরা চলে যান। বাজারে দিনদুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।

About Editor Todaynews24

Check Also

দিপু দাসের পরিবারের পাশে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা

দিপু দাসের পরিবারের পাশে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার উদ্যোগে এই অর্থসহায়তা দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *