বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনবদ্য গ্রন্থ ‘লবটুলিয়ার কাহিনি’ নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস–সংলগ্ন সোনাপুর শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষকেরা এবং বন্ধুসভার বন্ধুরা অংশগ্রহণ করেন। বইটির সাহিত্যিক সৌন্দর্য, প্রকৃতিপ্রেম এবং পরিবেশ-সচেতনতার বার্তা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।
‘লবটুলিয়ার কাহিনি’ মূলত লেখকের কালজয়ী উপন্যাস ‘আরণ্যক’-এর একটি সংক্ষিপ্ত ও কিশোর-উপযোগী সংস্করণ। আকারে ছোট হলেও বইটি প্রকৃতি, মানুষ ও পরিবেশের গভীর সম্পর্ককে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরে।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সত্যচরণ জীবিকার তাগিদে বিহারের লবটুলিয়া অঞ্চলের বিশাল বনভূমির ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য, নিস্তব্ধতা ও প্রাকৃতিক জীবন প্রথমে তাকে মুগ্ধ করলেও পরবর্তী সময়ে সেই বনভূমি কেটে বসতি ও কৃষিজমি তৈরির দায়িত্ব তার সামনে এক গভীর নৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পেশাগত দায়িত্বের এই সংঘাতই বইটির মূল উপজীব্য।

বইটির অন্যতম শক্তি হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসাধারণ প্রকৃতি-বর্ণনা। তাঁর সহজ, সাবলীল ও চিত্রময় ভাষা পাঠককে যেন সরাসরি অরণ্যের ভেতরে নিয়ে যায়। গাছপালা, পাখির ডাক, বনভূমির নিস্তব্ধতা এবং সেখানে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। একই সঙ্গে বইটি আমাদের উপলব্ধি করায়, উন্নয়নের নামে নির্বিচার বন উজাড় করলে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সানজিদ মুনতাসির বলেন, ‘পাঠচক্র আমাদের চিন্তা ও পাঠাভ্যাসকে আরও সমৃদ্ধ করে।’
বন্ধু ফারিহা হোসেন বলেন, ‘বইটি প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।’
সহসভাপতি, নোবিপ্রবি বন্ধুসভা