সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন ফাহিমা, গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে সব শেষ
এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন ফাহিমা, গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে সব শেষ

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন ফাহিমা, গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে সব শেষ

১০ মাস আগে ফাহিমা আক্তার ও আনোয়ার হোসেনের বিয়ে হয়। দেড় মাস আগে তাঁরা ঢাকায় গিয়ে সংসার শুরু করেন। ফাহিমার স্বপ্ন ছিল নিজের অনলাইন ব্যবসাকে বড় করবেন, গড়ে তুলবেন নিজেদের ভবিষ্যৎ। তাঁর সংসারে ছিল আট বছরের ভাগনি হাফসা। তাকে ঢাকায় নতুন স্কুলে ভর্তি করাতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাড়া বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে মুহূর্তেই সবকিছু বদলে গেছে। দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন আনোয়ার হোসেন ওরফে শাহিন (২৫), শিশু হাফসা ও সর্বশেষ ফাহিমা (২০)। এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে কুমিল্লার দেবীদ্বারে স্বজনদের এখন শুধু কান্না আর শোকের দীর্ঘশ্বাস।

গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আনোয়ার হোসেন

ফাহিমা দেবীদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। জাফরগঞ্জ মীর আবদুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর স্নাতকে (সম্মান) ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি, পোশাক বিক্রি ও বিভিন্ন পণ্যের অনলাইন ব্যবসা নিয়ে নিজের একটি পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরে দেবীদ্বারের গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মির্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা নতুনবাজারের ১০০ ফিট সড়ক এলাকার একটি বাসার নিচতলায় ভাড়া ওঠেন। বড় বোনের মেয়ে হাফসাকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন, যাতে ঢাকায় পড়াশোনা করাতে পারেন।

হাফসা

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২১ জুলাই ভোরে বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে। গুরুতর দগ্ধ হন আনোয়ার, ফাহিমা ও হাফসা। তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়া ফাহিমা কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে গত শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে আনোয়ার হোসেন এবং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে হাফসা আক্তার মারা যায়। আনোয়ারের শরীরের ৫০ শতাংশ ও হাফসার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

আজ সকালে দেবীদ্বার সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে স্বামী আনোয়ার হোসেনের কবরের পাশে বাঙ্গুরী গ্রামে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবীদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। ফাহিমাকে হারিয়ে বারবার ভেঙে পড়েছেন বাবা গোলাম হোসেন। তাঁর অভিযোগ, ঢাকার ভাড়া বাসায় ওঠার পরই গ্যাস লিকেজের বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়েছিল, কিন্তু সেটিকে গুরুত্ব দেননি তিনি।

গোলাম হোসেন মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সময়মতো যদি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো আজ আমার মেয়েটা বেঁচে থাকত। আমার মেয়ের সঙ্গে নাতনি হাফসাও চলে গেল। একটি অবহেলা আমাদের পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আবু হানিফ বলেন, ‘আনোয়ার ও ফাহিমা দম্পতির মৃত্যুতে পুরো এলাকাবাসী শোকাহত। নতুন সংসার আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়েই তাঁরা ঢাকায় গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে নিষ্পাপ শিশুটির এমন করুণ মৃত্যু পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে।’

About Editor Todaynews24

Check Also

উন্নয়ন প্রকল্পে সম্ভাবনা, জনসম্পৃক্ততা ও পিপিপি মডেলে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ

উন্নয়ন প্রকল্পে সম্ভাবনা, জনসম্পৃক্ততা ও পিপিপি মডেলে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিমানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের আরও সক্রিয় হতে হবে এবং চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *