তৃণমূলের ক্রিকেটারদের ভিত্তি গড়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা জেলা ও মহানগরের কোচদের। অথচ এই পর্যায়ের অনেক কোচের মান নিয়ে খোদ বিসিবিই পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। স্বজনপ্রীতি আর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশ্ন আছে কোচদের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েই।
সেই ধারা থেকে বের হতে বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন করে দেশের ৫৯টি জেলা ও ঢাকা মহানগরের ২ জনসহ মোট ৬১ জন কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে পরীক্ষা নিয়ে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। ভালো উদ্যোগ সন্দেহ নেই; কিন্তু যে ধারা থেকে বের হয়ে আসতে বিসিবির এই উদ্যোগ, প্রক্রিয়াটি শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সেই ‘রাজনৈতিক প্রভাব আর স্বজনপ্রীতি’র কারণেই।
আগ্রহী কোচদের ২৮ জুনের মধ্যে জীবনবৃত্তান্তসহ আবেদন করতে বলেছিল বিসিবি। বিসিবির বেঁধে দেওয়া মানদণ্ড অনুযায়ী আবেদনকারীদের অবশ্যই লেভেল ওয়ান কোচিং সনদ থাকতে হবে অথবা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার হতে হবে। একই সঙ্গে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট জেলার স্থায়ী বাসিন্দাও হতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২১৮টি আবেদনপত্র জমা পড়লেও অভিযোগ আছে, এর মধ্যে মানদণ্ড পূরণ করেছে মাত্র ৯০টির মতো। বাকি আবেদনকারীদের না আছে লেভেল ওয়ান সনদ, না তাঁরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। আবেদনের শর্ত পূরণ না করা কেউ আবেদন করলেও যাচাই-বাছাইতে তাঁরা পরীক্ষার জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হবেন—এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হওয়ার কথা; কিন্তু বিস্ময়করভাবে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ আবেদন করা যোগ্য-অযোগ্য সবাইকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র দিয়েছে। গত পরশু থেকে শুরু হয়ে গেছে পরীক্ষাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূলত রাজনৈতিক প্রভাব এবং সুপারিশের জোরেই মানদণ্ড পূরণ না করা আবেদনকারীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে বিসিবি। অবশ্য নিয়োগপ্রক্রিয়া–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সবাইকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্স সম্পূর্ণ করার আগপর্যন্ত তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না। যাঁরা নিয়োগ পাবেন, তাঁদের জন্য নাকি দ্রুতই একটি লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্স আয়োজন করা হবে। আরেকটি সূত্র বলেছে, পরীক্ষার প্রশ্ন এতটাই কঠিন করা হবে যে অযোগ্যরা পাসই করতে পারবেন না! বিসিবি যদি সত্যিই এমন অপেশাদার চিন্তা করে থাকে, সেটি হবে আরও হাস্যকর।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ফাহিম সিনহাকে। পরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে মুঠোফোনে এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার দিক থেকে পরিষ্কার বার্তা ছিল—নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা না থাকে আর কাউকে বাড়তি সুবিধা না দেওয়া হয়। আমরা সবচেয়ে ভালো কোচদেরই নিয়োগ দিতে চাই।’
তবে বিসিবি সভাপতি পরামর্শ দেন বিষয়টি নিয়ে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান ফাহিম সিনহার সঙ্গে কথা বলতে; কিন্তু এবারও তিনি ফোন ধরেননি, জবাব দেননি খুদে বার্তারও।
পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাকিফ আহমেদের সঙ্গে। তিনি মানদণ্ড পূরণ না করা আবেদনকারীদের প্রবেশপত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে খুদে বার্তায় বলেন, ‘সুপারিশের জন্য বাড়ানো (পরীক্ষার্থীর সংখ্যা) হয়নি। যাঁরা অ্যাপ্লাই করেছেন, সবাইকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী ক্যান্ডিডেট অনেক কম ছিল; আর যেহেতু অনেক দিন ধরে লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্স হয় না; তাই যাঁরা অ্যাপ্লাই করেছেন, সবাইকে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা অ্যাপ্লাই করেননি, তাঁদের আবার অ্যাপ্লাই করার সুযোগ দেওয়া হবে।’
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে তাহলে মানদণ্ডের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের অবশ্য তিনি কোনো উত্তর দেননি।