সর্বশেষ খবর
Home / সকল আপডেট / কুকুর পেছনের পা দিয়ে মাটিতে লাথি দেয় কেন
কুকুর যখন অন্য কোনো কুকুরের লাথি দেওয়া মাটি বা পাতার গন্ধ নেয়, তখন সহজেই বুঝে ফেলে আগের কুকুরটি ঠিক কতক্ষণ আগে সেখানে এসেছিল। কারণ, এক ঘণ্টা আগের গন্ধ আর কয়েক দিন আগের গন্ধের মধ্যে তফাৎ থাকে

কুকুর পেছনের পা দিয়ে মাটিতে লাথি দেয় কেন

রাস্তাঘাটে কিংবা পার্কে প্রস্রাব বা পায়খানা করার পর কুকুরদের প্রায়ই দেখা যায় পেছনের পা দিয়ে তীব্র জোরে ঘাস ও মাটি ছিটাতে। মাটি ছিটানো শেষ হলেই এরা আবার স্বাভাবিকভাবে দৌড়ে চলে যায়। কুকুরের এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখে অনেকে ভাবে, এটা হয়তো পরিবেশ নষ্ট করার কোনো খারাপ অভ্যাস। কিন্তু মলমূত্র ত্যাগের পর মাটিতে এভাবে পা দিয়ে লাথি মারা বা আঁচড়ানো মোটেও কোনো খারাপ অভ্যাস বা অহেতুক লাফালাফি নয়। এটি কুকুরের খুব স্বাভাবিক একটি সহজাত আচরণ। যার পেছনে কিছু বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

কুকুর যখন অন্য কোনো কুকুরের লাথি দেওয়া মাটি বা পাতার গন্ধ নেয়, তখন সহজেই বুঝে ফেলে আগের কুকুরটি ঠিক কতক্ষণ আগে সেখানে এসেছিল

অন্য কুকুরদের সংকেত দেওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপাখি বিশেষজ্ঞ কার্লো সিরাকুসা। তিনি জানান, কুকুরদের এই জোরে লাথি মারা আসলে অন্যান্য কুকুরের কাছে বার্তা পাঠানোর একটি কৌশল। সহজ কথায়, এটি এদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার একটি পদ্ধতি।

মলমূত্র ত্যাগের পর মাটিতে লাথি দেওয়া কেবল নিজের এলাকা দখল করার জন্য নয়। বরং নিজের উপস্থিতির সময়টা জানিয়ে দেওয়ারও একটা উপায়। এর মাধ্যমে এরা যেন অন্য কুকুরদের উদ্দেশ করে বলে, আমি কিন্তু এখানে এসেছিলাম।

কুকুর যখন অন্য কোনো কুকুরের লাথি দেওয়া মাটি বা পাতার গন্ধ নেয়, তখন সহজেই বুঝে ফেলে আগের কুকুরটি ঠিক কতক্ষণ আগে সেখানে এসেছিল। কারণ, এক ঘণ্টা আগের গন্ধ আর কয়েক দিন আগের গন্ধের মধ্যে তফাৎ থাকে। তাই নিজের উপস্থিতি ও সময় পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিতে এরা বারবার এই চিহ্ন বা বার্তা নতুন করে রেখে যায়।

দুই ধরনের সংকেত

লাথি মেরে তৈরি করা এই চিহ্ন মূলত দুটি ভিন্ন তথ্য দেয়। প্রথমটি হলো গন্ধ, আর দ্বিতীয়টি হলো মাটিতে পড়ে থাকা আঁচড়ের দাগ। মাটির আঁচড়টি হলো খালি চোখে দেখে বোঝার সংকেত। আর গন্ধটি হলো শুঁকে বোঝার সংকেত। জোরে লাথি মারার ফলে মলমূত্রের গন্ধ মাটির বড় একটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুটা বাতাসেও ভেসে যায়। একই সঙ্গে মাটিতে একটি দাগ তৈরি হয়, যা অন্য যেকোনো কুকুরের চোখে সহজেই পড়ে। বিষয়টি বিড়ালের এলাকা চিহ্নিত করার পদ্ধতির মতো। যেখানে চোখে দেখার মতো একটি দাগ থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে থাকার মতো একটা গন্ধ থেকে যায়।

নেকড়ে

নেকড়েদের থেকে পাওয়া জিনগত অভ্যাস

কুকুরদের এই অদ্ভুত অভ্যাস এসেছে নেকড়ে থেকে। নেকড়েদের জীবনে নিজস্ব এলাকা রক্ষা করা ভীষণ জরুরি একটি বিষয়। এরা মলমূত্রের গন্ধ ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সীমানা নির্ধারণ করে ও অন্যদের এলাকা ছেড়ে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেয়। এমনকি এই গন্ধ শুঁকেই অন্য নেকড়েরা বুঝতে পারে সামনের প্রাণীটি কোনো মানসিক চাপে আছে কি না, কিংবা সম্প্রতি কী খাবার খেয়েছে।

বুনো নেকড়েদের মতো উন্মুক্ত জায়গায় ঘুরে বেড়ানো কুকুরদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে একই ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো কুকুররা মাটিতে পা দিয়ে আঁচড় কেটে নিজেদের একধরনের ব্যক্তিগত সীমানা তৈরি করে। কোনো সংঘাত বা লড়াইয়ের সময় প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতেও এরা এই আচরণ ব্যবহার করে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী কুকুরের চেয়ে পুরুষ কুকুররা নিজেদের এলাকা নিয়ে অনেক বেশি সচেতন থাকে। বিশেষ করে আশেপাশের অন্য কোনো পুরুষ কুকুরের উপস্থিতি টের পেলে এরা আরও বেশি আগ্রাসীভাবে নিজেদের গন্ধ ছড়িয়ে সতর্কবার্তা পাঠায়।

বিজ্ঞানীরা বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ কুকুর কিন্তু বাড়িতে বন্দী পোষা প্রাণী নয়। এরা এখনো খোলা জায়গায় দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে এলাকা রক্ষা করার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে পোষা কুকুরটির জন্য হয়তো এলাকা দখলের লড়াই নেই। তবু জিনগত কারণে এই আচরণ ধরে রেখেছে। তাই পার্কে বা হাঁটার পথে পাতা ছিটিয়ে ও মূলত অন্য কুকুরদের জানান দেয় নিজের উপস্থিতির কথা।

গন্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যান্য উপায়

মাটিতে লাথি মেরে আঁচড় কাটা ছাড়াও কুকুরদের নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার আরও কিছু মাধ্যম রয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় বারবার প্রস্রাব করা এবং ওভারমার্কিং। এই ওভারমার্কিং হলো এমন এক কৌশল, যেখানে একটি কুকুর অন্য কোনো কুকুরের ফেলে যাওয়া গন্ধের ওপর ইচ্ছা করে নিজের প্রস্রাব বা গন্ধ ছড়িয়ে ওর ওপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

থাবার গন্ধ নিয়ে গবেষণা

কুকুরের পায়ের থাবায় একধরনের গন্ধগ্রন্থি থাকে। ধারণা করা হয়, মাটিতে লাথি বা আঁচড় মারার সময় সেই গ্রন্থি থেকেও কিছু বিশেষ গন্ধ বের হয় এবং তা মূল প্রস্রাব বা মলত্যাগের গন্ধের সঙ্গে মিশে যায়। তবে কুকুরের থাবার গ্রন্থি থেকে কী ধরনের কেমিক্যাল বা ফেরোমন বের হয় এবং এর আসল অর্থ কী, তা নিয়ে এখনো তেমন গবেষণা হয়নি।

তবে ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কুকুররা এদের থাবার গন্ধ শুঁকেই এক কুকুরকে অন্য কুকুর থেকে আলাদা করতে পারে। যদিও শুধু থাবার গন্ধ শুঁকিয়ে একটি কুকুর পুরুষ নাকি স্ত্রী তা বুঝতে পারে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: পপুলার সায়েন্স

About Editor Todaynews24

Check Also

ঘুম

ঘুম

আমার নাম শফিক। বয়স ৩৩। এই দুটি তথ্য আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। এর বাইরে আমার জীবনের কোনো তথ্যই নিশ্চিত না। বারবার বদলাতে থাকে। কারণটা ভেঙে বলি। আমার জীবন একটি না, দুটি।প্রতি রাতে আমি যখন ঘুমাতে যাই, তখন আসলে আমি ঘুমাই না। আমি জেগে উঠি অন্য একটা জায়গায়, অন্য একটা জীবনে। সেখানে সারা দিন কাটাই, রাতে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *