এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর দিকে পেপারওয়েট ছোড়ার ঘটনায় গোপালগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক মো. সুজন মিয়াকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
আইনজীবীদের একাংশ আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নিচ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে আইনজীবী সমিতির সামনের সড়ক হয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন আইনজীবী হাবিবুর রহমান, মিলন শরীফ, সোহাগ সমাজদার, রোকেয়া আক্তারসহ অন্যরা।
হাবিবুর রহমান বলেন, আদালত চলাকালে কোনো আইনজীবী বা শিক্ষানবিশ আইনজীবী অশোভন আচরণ করলে বিচারক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি যেটি করেছেন, সেটি আইনবহির্ভূত। একজন নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আহত করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায় নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট বিচারককে দ্রুত গোপালগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
বিচারক মো. সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
রোকেয়া আক্তার বলেন, নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আহত করার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগেও একই বিচারকের বিরুদ্ধে একজন মোহরারের দিকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারার অভিযোগ আছে। আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকের আচরণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ আছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে বিচারক মো. সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার দিকে কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে। এতে তাঁর কপালের ডান পাশে আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় আদালতেই পড়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গোপালগঞ্জ জুডিসিয়াল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) মনিরুল ইসলাম জানান, বিচারক মো. সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।