
নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসনসুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) ফ্ল্যাট ও আবাসন প্রকল্প নির্মাণের সুপারিশ করেছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে তাঁরা মধ্যবিত্তের জন্য একক অঙ্কের সুদে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণ চালুরও দাবি জানিয়েছেন।
আজ বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এ সময় এসব প্রস্তাব দেন রিহ্যাব নেতারা। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজালসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে রিহ্যাব।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রিহ্যাব মোট ছয়টি প্রস্তাব দেয়। অন্য প্রস্তাব চারটি হচ্ছে পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন করা; নিবন্ধন ব্যয়, ভ্যাট ও করকাঠামো যৌক্তিকীকরণ; জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনি কর প্রত্যাহার করা এবং পরিকল্পনা অনুমোদনপ্রক্রিয়ার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা চালু করা।
সাক্ষাৎকালে রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল প্রধানমন্ত্রীকে জানান, এসব প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ সহজ হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে রিহ্যাব জানায়, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী রিহ্যাবের প্রস্তাবনাগুলো শুনেছেন। তিনি রিহ্যাবের যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি জমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, রাজউক বা সরকার নিজে আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক—এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক (পিপিপি) আবাসন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়নের দাবি
প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা প্রস্তাবনায় রিহ্যাব জানায়, দেশের জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সীমিত ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২১০০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য জনসংখ্যা, নগরায়ণ, আবাসনের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন করা খুবই জরুরি। তারই অংশ হিসেবে সারা দেশের জমিকে কৃষি, বনাঞ্চল, জলাশয়, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পাঞ্চল ও সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে। প্রতিটি জোনের জন্য পৃথক ব্যবহারবিধি নির্ধারণ করতে হবে। এতে অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবহার রোধ হবে, কৃষিজমি, শিল্পায়ন ও আবাসন উন্নয়ন সুশৃঙ্খল হবে।
এ ছাড়া পরিকল্পিত ও উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) নগরায়ণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন বলে জানায় রিহ্যাব। সংগঠটি বলেছে, সেই বাস্তবতায় বর্তমান বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং নির্মাণ বিধিমালা পুনর্মূল্যায়ন ও যুগোপযোগী সংস্কার করা প্রয়োজন।
আবাসনের জন্য এক অঙ্কের সুদহারের বিষয়ে রিহ্যাব বলেছে, উন্নত বিশ্বের মতো সহজ শর্তে গৃহঋণ চালু করা হলে লাখো পরিবার নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে আবাসন খাতেও ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে।
রিহ্যাব আরও জানায়, বাংলাদেশে নিবন্ধন ব্যয় এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এটি ৫ শতাংশ করার জন্য অনুরোধ করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর ফ্ল্যাট নির্মাণে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনি কর প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে রিহ্যাব।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রিহ্যাবের সহসভাপতি আবু খালিদ মো. বরকাতউল্লাহ, মো. হারুন অর রশিদ, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খান ও কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান, স্বদেশ প্রপার্টিজের এমডি এম এ কাইয়ুম এবং সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান এমজিআর নাসির মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।