আগামী সাত দিনের মধ্যেই নিজের স্থাবর–অস্থাবর সম্পদের হিসাব দেবেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
এর আগে বিকেলে এক সংবাদ বিবৃতিতে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আয় ও সম্পদ বিবরণী, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানায় টিআইবি।
বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে আমরা নিজেদের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দেব। এ সময় নবনিযুক্ত কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজি সম্পদের হিসাব দেয়ার বিষয়ে সম্মত হন।
বিফ্রিংকালে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশের নবজন্ম হয়েছে। ৫ আগস্টের পুর্ববর্তী ও পরবর্তী বাংলাদেশ এক নয়। যে আন্দোলন থেকে এই নব বাংলাদেশের সৃষ্টি সেটি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন। বৈষম্যমের মূল হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি কমলে বৈষম্য কমবে।’
সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আর সেক্ষেত্রে আমরা আপনাদের সহায়তা চাই। আপনারা সহায়তা করলে আমরা দুর্নীতি কমাতে পারব। দুর্নীতি একেবারে বন্ধ করতে পারব এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঠিক হবে না। তবে আমরা সম্মিলিতভাবে সাধ্যমত চেষ্টা করলে কমানো সম্ভব।’
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এতদিন কমিশন ছিল না। কমিশন না থাকায় যে দুদক একেবারে স্থবির ছিল এমনটা বলা ঠিক হবে না। আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে যেটা যেনেছি কমিশন না থাকলেও তারা কাজ করেছেন। তবে হয়ত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়গুলো বন্ধ ছিল। আমরা আজ দুইজন যোগদান করেছি। আর একজন কমিশনার শিগগিরই যোগদান করবে। উনি যোগদানের আগ পর্যন্ত আমরা কাজ চালিয়ে নেব। কাজে গতি ফেরাতে যা করা দরকার করব।’
কাজের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণ আমাদের প্রধান গুরুত্ব। দেশে বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে, যেসব দুর্নীতিতে রাষ্ট্র বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যারা এসব দুর্নীতি করেছে তারা যাতে শেষ পর্যন্ত ছাড় না পান সেটি নিশ্চিত করব। আমাদের অনুসন্ধান ও তদন্ত যাতে অসমাপ্ত না থাকে বা বায়াসড না হয় সেদিকে লক্ষ রাখব। আমরা ৩ জনেই একই মতাদর্শের অনুসারী। আমরা রাজনৈতিকভাবে বায়াসড হয়ে কোন কাজ করব না।’
দুদকের দুর্নীতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘দুদক সমাজের অংশ, সমাজে দুর্নীতি হলে দুদকে হতেও পারে। বেশকিছু অভিযোগ আমার বিরুদ্ধেও আছে। সেটি আপনারা দেখবেন, মিডিয়া ট্রায়াল না করে বিচার বিশ্লেষণ করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে উপনিত হবেন।
দুদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার ২০০৯ সালের অভিযোগ ২২ সাল পর্যন্ত চলছে। এটাই তো হয়রানি। আমাদেরকে কাজ শুরু করতে দেন। মুখের প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করব। পরবর্তীতে যখন আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে তখন আপনারাই বলবেন আমরা কাজে গতি, হয়রানি কমানো, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারছি কি না।
তিনি আরও বলেন, আমি ৩টি রাজনৈতিক দল ও ২ টি তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সঙ্গে কাজ করেছি। এটা অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের রাজনৈতিক কোন চাহিদা নেই। এই সরকারে চাওয়া জনগণের চাহিদা। জনগন যাতে সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার পায় সেটি নিশ্চিত করা। সে অনুযায়ী নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা কাজ করে যাব।
সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘দুদক বিটে যেসব সাংবাদিকরা কাজ করেন তাদের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য আছে। তারা অনেক বেশি শিক্ষিত এবং স্মার্ট। তারা আইনকানুন সম্পর্কে ভালো জানেন। আমাদের কাজের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহায়তা লাগবে। সাংবাদিকরা দুদকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।
দুদকের উপর তাহলে কালো মেঘ ভর করেছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বলেন, ‘কালো মেঘ ভর করেছে কি না সেটি নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। পেছনের কথা আর বলতে চাই না। সেটি আপনারাও ভালো জানেন। আমাদের কাজ দুর্নীতি দমন করা। ছোট থেকে বৃহৎ সবই দুর্নীতি। যা নীতি নয় তাই দুর্নীতি। আর্থিক অসঙ্গতি, নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই। দুদকের কাজ দুর্নীতি নির্ণয় করা। বিচার করা নয়, বিচার করবে বিচারক। আমি অনেক মামলার রায় দিয়েছি। রায় দেয়ার পরে মনে হয়েছে আমি ইবাদত করেছি। কখনো হাত কাপেনি। অনুসন্ধান ও তদন্ত ঠিকমত করতে পারলে জনগন ন্যায় বিচার পাবেই। ন্যায় বিচারের পেছনে তদন্ত ফাউন্ডেশন। তদন্ত ঠিক হলে ন্যায় বিচার হবে। আমরা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবার মধ্যে থেকে সরকার বাহাদুর আমাদেরকে বাছাই করেছেন। আমরা জনপ্রত্যাশা পূরনে কাজ করব। আমাদের ক্রুটি বিচ্যুতি চোখে পড়লে বলবেন, আমরা সুধরে নেব। অনুসন্ধান ও তদন্ত যত দ্রুত বিচারালয়ে পাঠানো যায় সেই চেষ্টা করব।
Today News 24