সর্বশেষ খবর
Home / জাতীয় / সারা দেশ / ১০ বছর বাপেক্সের শতভাগ সাফল্য সত্ত্বেও গোষ্ঠীস্বার্থে এলএনজিতে

১০ বছর বাপেক্সের শতভাগ সাফল্য সত্ত্বেও গোষ্ঠীস্বার্থে এলএনজিতে

দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি হিসেবে ১৯৮৯ সালে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত নিজস্ব সক্ষমতা দিয়ে কূপ খনন করেছে অর্ধশতাধিক। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গ্যাস অনুসন্ধানে খননকৃত প্রতিটি কূপেই শতভাগ সাফল্য পেয়েছে কোম্পানিটি।

এর পরও গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে উপেক্ষা করে বিদেশী কোম্পানি ও এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে একদিকে কোম্পানিটির কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, অন্যদিকে বিদেশী কোম্পানিনির্ভরতা ও এলএনজি আমদানি বাড়াতে গিয়ে চাপে ফেলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বাপেক্সকে সংস্থাটির নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করতে না দেয়ার পেছনে বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-আমলাদের এলএনজি আমদানিতে কমিশন বাণিজ্য বড় অংশে দায়ী। এ কারণেই তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মতো সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি সংস্থাটির।

অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পর্যাপ্ত আর্থিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় কোম্পানিটির দক্ষ ও যোগ্য লোকবল স্থানান্তরিত হয়েছে বিদেশী কোম্পানিতে।

বাপেক্সের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোট ১৭টি কূপ খনন করেছে বাপেক্স। এসব কূপের প্রতিটিতেই গ্যাস আবিষ্কার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিতাস, কৈলাসটিলা ও শাহবাজপুরের মতো গ্যাস ক্ষেত্রে কূপে খননকার্য চালিয়ে গ্যাস পেয়েছে বাপেক্স।

২০০৪ সালে নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আইডিকো রিগ দিয়ে শ্রীকাইল-১ গ্যাস আবিষ্কার করে বাপেক্স।

২০০৫ সালে গার্ডনার ডেনভার রিগ ব্যবহার করে আবিষ্কৃত হয় তিতাস-১৫ ও তিতাস-১৬ কূপ।

২০০৭ সালে কৈলাসটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে কূপ-৫ ও ৬ এবং নরসিংদী-২ কূপ খনন করে গ্যাস আবিষ্কার করে বাপেক্স। ২০০৮ সালে ভোলার শাহবাজপুর-২, ২০০৯ সালে তিতাস-১৪ ও বাঙ্গুরা গ্যাস ক্ষেত্রে ৩ নম্বর কূপ খনন করে গ্যাস পাওয়া যায়। এরপর ২০১১ সালে সুন্দলপুর-১ কূপ ও সালদা নদী-৩, ২০১২ সালে গাজীপুরের কাপাসিয়া-১, শ্রীকাইল-২, ২০১৩ সালে তিতাস-১৭, বাখরাবাদ-৯, তিতাস-১৮, সুনেত্র-১ ও শ্রীকাইল-৩ নম্বর কূপে গ্যাস পায় বাপেক্স।

বাপেক্সের নিজস্ব সক্ষমতায় আইডিকো, গার্ডনার ডানভার, আইপিএস কার্ডওয়েল ও বিজয়-১০ রিগ দিয়ে এসব কূপ খনন করা হয়।

২০১৪ সাল থেকে দেশের স্থলভাগে কূপ খননে বাপেক্সের পাশাপাশি কাজ দেয়া হয় রুশ তেল-গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রমকে। কোম্পানিটি সাতটি কূপ খনন করে।

সে সময় মূলত বাপেক্সের আবিষ্কৃত জায়গায়ই কূপ খননের কাজ দেয়া হয়েছিল গ্যাজপ্রমকে। অভিযোগ রয়েছে, বাপেক্সের সক্ষমতা নেই এমন অভিযোগ থেকেই তাদের আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রে রুশ কোম্পানিটিকে কাজ দেয়া হয়েছিল। এজন্য বিদেশী কোম্পানিটিকে পরিশোধ করতে হয়েছে বাপেক্সের অনুমিত খরচের চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি অর্থ।

২০১৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে বাপেক্স ও গ্যাজপ্রমকে দিয়ে খনন করানো হয় ২৫টি কূপ। এর মধ্যে ১৬টিতে গ্যাস আবিষ্কার হয়। বাকিগুলো চিহ্নিত হয় বাণিজ্যিকভাগে অলাভজনক ও শুষ্ক হিসেবে। গ্যাজপ্রমকে দিয়ে ভোলায় খননকৃত কূপের গ্যাস এখনো ব্যবহার করতে পারেনি পেট্রোবাংলা।

বিপুল অর্থ ব্যয়ে এসব কূপ খনন করলেও পাইপলাইন স্থাপন করতে না পারায় এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারেনি সংস্থাটি।

এতে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও প্রয়োজনমাফিক বাড়ানো যায়নি। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ছয় বছরে দেশে ৪১০টি কার্গোয় মোট ১ হাজার ২৪৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) এলএনজি আমদানি করা হয়েছে।

এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে কেনা হয়েছে ৩৪৩ কার্গো এলএনজি এবং স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়েছে ৬৭ কার্গো। এতে ব্যয় হয়েছে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ আমদানি হয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। স্পট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় দাম কিছুটা কমে গেলে এ সময় এলএনজি আমদানি করা হয় সর্বোচ্চ ৮৩ কার্গো।

এতে গত অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে ৪২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার বেশি। এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও দেশের জ্বালানি খাত এখন তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর মধ্যে সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার-কারখানা, শিল্প ও আবাসিক খাত এখন তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে গ্যাস খাত। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মাধ্যমে অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করে সহজ সমাধান হিসেবে এলএনজি আমদানির নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে সে বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।

একই সঙ্গে বাপেক্সের দক্ষ ও যোগ্য লোকবলকে ধরে রাখতে কোম্পানির আর্থিক কাঠামো আধুনিকায়নেও মনোযোগ দেয়া হয়নি কখনো।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি প্রফেসর অধ্যাপক বদরূল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কূপ খননে বাপেক্সের অতীত সফলতা আমরা সবাই দেখেছি। বিগত সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির কর্মদক্ষতাকে মূল্যায়ন করতে পারেনি। তাদের কাজ দেয়া হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ দেয়া হয়নি।

সেকেন্ডারি প্রতিষ্ঠানের চোখে দেখা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাপেক্সকে শতভাগ কাজে লাগানোর কথা বলেছে। কিন্তু সংস্থাটির কার্যক্রমে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। তাদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে শক্তিশালী করার এখনই মোক্ষম সময়।

বাংলাদেশে হরিপুরে জ্বালানি তেলের একমাত্র খনিটি বাপেক্সেরই আবিষ্কার, যা কোনো বিদেশী কোম্পানি করতে পারেনি। ফলে তাদের অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।’

তবে বাপেক্সকে কাজে লাগাতে না পারার বিষয়টিতে পুরোপুরি একমত নন সংস্থাটির সাবেক এমডি মর্তুজা আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘অতীতে বাপেক্সের সাফল্য ও গ্যাস কূপ খননে শতভাগ সফলতার হারকে অস্বীকার করা যায় না।

তবে বাপেক্স যেসব কূপ খনন করেছে; মজুদ ও আর্থিক মূল্য বিবেচনা করলে তা সীমিত। কিন্তু এটা সত্য যে বাপেক্সের অতীত সফলতাকে বড় আকারে কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল, সেটি করা যায়নি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাপেক্সের গ্যাস কূপ খনন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাপেক্সকে তার সক্ষমতার তুলনায় অবাস্তব লক্ষ্য দেয়া হয়েছে।

এসব লক্ষ্য পূরণে মূল কাজের (কূপ খনন) চেয়ে অন্যান্য কাজে বেশি ব্যস্ত রাখা হয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটিতে দক্ষ ও যোগ্য লোকবল ধরে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক গ্যাস কোম্পানিগুলোর মতো সুযোগ-সুবিধাও দেয়া যায়নি।

যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বহু যোগ্য ও দক্ষ লোকবল বিদেশী কোম্পানিতে চলে গেছে।’

তিনি মনে করেন, ‘স্থলভাগের অনেক জায়গায় বাপেক্সের পাশাপাশি সরকার বিদেশী কোম্পানি দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান চালাতে পারত, সেটি করেনি। তাতে দুটি উপকার হতো—প্রথমত, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকারের কোনো অর্থ খরচ হতো না, অন্যদিকে বিদেশী কোম্পানি এদেশে এলে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষ লোকবল তৈরিতে বাপেক্স আরো এগিয়ে যেত।’

দেশে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তোলিত গ্যাসের সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময় নেয়া মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববাজার থেকে এলএনজি কিনতে গিয়ে নানা সময় অর্থ সংকটে পড়তে হয়।

অর্থ সংকটের কারণে দেশে গ্যাস কূপ খননের জন্য গঠিত ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের’ অর্থ ব্যবহার করতে হয়েছে পেট্রোবাংলাকে।

বাপেক্সের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের ভাষ্যমতে, সংস্থাটি তার নিজ সক্ষমতায় দেশের বহু এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ চালিয়েছে। এসব জরিপে বিদেশী কোম্পানি যে পরিমাণ অর্থ নিয়েছে, তার চেয়ে অনেক কম অর্থ ব্যয় হয়েছে বাপেক্সের জরিপে।

সংস্থাটি এ পর্যন্ত ১৯ হাজার লাইন কিলোমিটারের বেশি এলাকায় দ্বিমাত্রিক জরিপ চালিয়েছে। ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক জরিপে প্রতি কিলোমিটারে বাপেক্সের গড়ে ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

সেখানে বিদেশী কোম্পানি দিয়ে সিলেটে ত্রিমাত্রিক জরিপ করতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় ২ কোটি ৭০ লাখ ও দীঘিপাড়ায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

দেশে এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের জোগান মেটাতে গিয়ে কয়েক বছর ধরে হিমশিম খেয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। বিষয়টিকে অনুধাবন করতে পেরে ২০২২ সালের শেষের দিকে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে স্বল্প পরিসরে বিনিয়োগ করতে থাকে তারা।

এরই অংশ হিসেবে ৫০টি গ্যাস কূপ খনন করে সাড়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। যদিও এ লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশও গ্রিডে যুক্ত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে এ প্রকল্প অব্যাহত রাখে।

সেই সঙ্গে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে শতভাগ কাজে লাগিয়ে পিএসসির (প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) মাধ্যমে স্থল ও সাগরে বিদেশী কোম্পানির মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশের স্থলভাগে বিভিন্ন কূপ খনন করছে বাপেক্স।

সংস্থাটি তার পুরো সক্ষমতায় শিডিউল অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে বলে জানালেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শোয়েব। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বাপেক্স বর্তমানে নিজস্ব সচল সব রিগ ব্যবহার করে কূপ খনন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আরো একটি রিগ মেরামত শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে খনন কার্যক্রমে যুক্ত হবে। স্থলভাগে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করবে।

এছাড়া গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্স এখন সাইসমিক প্রকল্পে অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছে। আশা করি অতীতের মতো সামনে বাপেক্স তার কর্মদক্ষতা তুলে ধরবে।’

About Editor Todaynews24

Check Also

নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতির শপথ দুপুরে

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকার্য পরিচালনা করতে প্রাথমিকভাবে ২ বছরের জন্য ২৫ জনকে অতিরিক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *