সর্বশেষ খবর
Home / জাতীয় / সারা দেশ / সাড়ে ৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ তদন্তে দুদক

সাড়ে ৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ তদন্তে দুদক

বিচারকদের স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারের ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকার উপরে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে। 

সরকারি কোষাগার থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা জালিয়াতির ঘটনায় মানিকগঞ্জের আদালত পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

এ ঘটনায় দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুজন শিকদার বাদী হয়ে জালিয়াতি চক্রের অন্যতম হোতা জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের ডিএএফও (ডিস্ট্রিক অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার) মো. নজরুল ইসলাম, সুপার দেওয়ান ফেরদৌস ওয়াহিদ, মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতির ৬ জন সদস্য ও ইমরান নাজিরের নিকটতম আত্মীয়স্বজনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনা কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর পরবর্তীতে হিসাব সহকারী ইমরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ইমরান কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার ধোকরাকোল গ্রামের মৃত নাজমুস সাহাদতের ছেলে। ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের মাধ্যমে চাকরি জীবন শুরু করেন।

এদিকে মামলার বাদী সুজন শিকদার জানান, মামলাটি তদন্তের জন্য স্পেশাল জজ আদালত থেকে দুদকে পাঠানো হয়েছে। টানা ৫ বছরের বেশি সময় ধরে নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা চললেও ধরা পড়ে চলতি বছরের নভেম্বরে।

এতে যোগসাজশের অভিযোগ স্বয়ং জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের জেলা কর্মকর্তা ও সুপারের বিরুদ্ধে। তবে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের ডিএএফও নজরুল ইসলামের কাছে কীভাবে জালিয়াতি হলো জানতে চাইলে ‘নো কমেন্টস’ বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ই জুলাই ২০১৯ সাল থেকে ২২শে আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত বরখাস্তকৃত ইমরান নাজির মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্মরত বিচারকদের স্বাক্ষর জাল করে প্রিয়েমশনসহ চলমান ও নিষ্পত্তিকৃত বিভিন্ন মামলার ভুয়া পেমেন্ট অর্ডার তৈরি করে শতাধিক মানুষের নাম সৃজন করে ৩২ কোটি ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৭৬৭ টাকা আত্মসাৎ করেন।

মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, শুধু ৬ আইনজীবীর অ্যাকাউন্টে সরকারি কোষাগারের  ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাচার হয়েছে।

গত ৫ বছর ৫ মাস ধরে বিভিন্ন পারিবারিক মামলা, এনআইঅ্যাক্ট (চেক ডিজঅনার) মামলার গচ্ছিত মামলার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে পর্যায়ক্রমে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জজ কোর্টের হিসাব সহকারী একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ২১ জনের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে তাদের কারও নামের হিসাবে ২১ লাখ থেকে শুরু করে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ভুয়া পেমেন্ট অর্ডার বানিয়ে তুলে নিয়ে গেছে।

এ কাজে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের ডিএএফও নজরুল ইসলাম, একই অফিসের সুপার দেওয়ান ফেরদৌস ওয়াহিদের বিরুদ্ধে।

About Editor Todaynews24

Check Also

নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতির শপথ দুপুরে

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকার্য পরিচালনা করতে প্রাথমিকভাবে ২ বছরের জন্য ২৫ জনকে অতিরিক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *