বৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার , ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং, ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Home / জাতীয় / আমাদের প্রাণের “নবগঙ্গা নদী

আমাদের প্রাণের “নবগঙ্গা নদী

” আমাদের ছোট নদী চলে বাকেঁ বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ী দুই ধার উচু তার,ঢালু তার পাড়ি “- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ কবিতাংশের মতোই হয়ে গেছে আমাদের নদীগুলো।

আজ ২৯ শে সেপ্টেম্বর চতুর্থ রবিবার ২০১৯ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। নদী হচ্ছে প্রকৃতির প্রাণ। আবহাওয়ায় আনে আদ্রর্তা। নদীমাতৃক দেশ হিসাবে এক সময় বাংলাদেশ সারা দুনিয়ায় পরিচিতি লাভ করেছিল। অথচ ভয়ংকর দূষনের শিকার প্রতিটি নদ-নদী।

 

দেশের বেশীরভাগ নদ-নদী এখন দখলদারদের কবলে। পাথর ও বালু উত্তোলনের কারনে অনেক নদী ক্ষতিগ্রস্থ। ২০১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী ৬২ জেলায় নদী দখলের সঙ্গে প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। যদিও বাস্তবে এ সংখ্যা আরো অনেক। এক সময় বলতাম ” ও নদী রে……. এখন বলতে হচ্ছে – ” আহা নদী রে….।

নদীনালা , খাল-বিল, ও হাওরে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। আজ আমি ” নবগঙ্গা নদী ” নিয়ে আলোচনা করে সবাইকে পরিচিত করবো।

খুলনা বিভাগের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের নদী – নবগঙ্গা নদী। ২১৪ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য নবগঙ্গা নদী চুয়াডাঙ্গা মাথা ভাঙ্গা নদী হতে উৎপত্তি হয়ে নড়াইল আতাই নদীতে মিলিত হয়ে শেষ হয়েছে। নবগঙ্গা নদী টি ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও মাগুরার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত। গবেষকরা জানিয়েছেন, নদী দখলে নদীর পানি শুকিয়ে নদীর যৌবন বিনষ্ট বা দূষনের কারনে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ।

পরিস্থিতি যা তাতে কয়েক বছর পর ছোট পুটি, খয়রা, চাপিলা, খলসে,চ্যালা, চিংড়ি, ট্যাংরা,শিং, মৌরলার মতো কিছু মাছে রসনা তৃপ্তির আশা ছাড়তে হবে। ভেটকি, বোয়াল, শোল,রইনা,কাকলে মাছ বিপন্নের তালিকায় যাবে। এছাড়া নদীর মধ্যে ময়লা আর্বজনা, পশুর মৃতদেহ, কচুরিপানার জটলা, বাজারের বর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং অবৈধ দখল বা স্থাপনা অপসারনের পাশাপাশি নবগঙ্গা নদীর অপমৃত্যু রোধ করতে হবে।

আজ নদী দখল হচ্ছে। কাল হাইকোর্ট থেকে একটি আদেশ দেওয়া হচ্ছে। এর কয়েকদিন চুপ থাকার পর আবার দখল ও দূষণ শুরু হয়ে যায়। এই কানামাছি খেলাটা বন্ধ হওয়া উচিত। নবগঙ্গা নদীকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই, তাহলে আমাদের হাতে নিতে হবে মহাপরিকল্পনা। গাফিলতি উপেক্ষা করে সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রণয়ন করতে হবে আইন ও বিধি।

নদীর পানিপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য নিয়মিত খননকাজ বাড়ানো। আমাদের সাধ্যমতো ও বিবেকজাগ্রত ইচ্ছা থেকেই সেগুলো বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করতে হবে। নবগঙ্গা নদীর পানিতে প্রশিক্ষিত ঝিনাইদহের যুব সমাজ তাদের বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। যেমন – হাসেঁর খামার, সু-স্বাদু মাছ যা প্রানীজ আমিষের ঘাটতি পূরণ করে, জলজ চাষ, ঝিনুক মুক্তার চাষ করে বহু যুবকের কর্মসংস্থান এই নদীর বুকে গড়ে ওঠবে। দীর্ঘমেয়াদি বা স্বল্পমেয়াদী ক্ষুদ্র / মাঝারি কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে।

 

এছাড়া নবগঙ্গা নদীর চারপাশে বিনোদন কেন্দ্র, থাকবে মিনি রেস্তোরাঁ। সেই সাথে থাকবে নবগঙ্গা নদী ঘুরে দেখার জন্য প্রমোদ তরী। সন্ধ্যাবেলায় আলোকিত থাকবে এসব স্থান, সবুজ ঘাস, ও ফুলগাছ দিয়ে সাজানো হবে সব জায়গাগুলো। দর্শণীয় বা ভ্রমনের স্থান করা যেতে পারে। যাতে আমরা বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাব। শহরের পানি নিষ্কাশনের সহজ পথ হবে এই নদী। বাংলাদেশ নদী প্রধান দেশ।

নদী হচ্ছে সভ্যতার ভরকেন্দ্র। একটি নদী মরে গেলে শুধু নদীই মরে না, তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা জনসংস্কৃতিও মরে যায়। নদীকে কেন্দ্র করেই শহর গড়ে উঠেছে। নদীর যৌবন ফিরে পেতে হলে অবৈধ দখল সরিয়ে বা উঠিয়ে দিয়ে পযর্টন খাতকে বিকশিত করার পাশাপাশি সুস্থ পরিবেশ ফিরে পেতে পারি।

লেখক -জেসমিন ইসলাম উল্কা

ঝিনাইদহ।

About todaynews24

Check Also

নাসিমকে মায়ের পাশেই দাফন করা হবে

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী কবরস্থানে দাফন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *