মঙ্গলবার , ১৮ জুন ২০১৯ বুধবার , ১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Home / জাতীয় / নিরাপদ মাতৃত্ব চাই চাই …..

নিরাপদ মাতৃত্ব চাই চাই …..

২৮ মে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। সারাবিশ্বে নারীর স্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে দিবসটি আন্তর্জাতিক ভাবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে মাতৃস্বাস্হ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৯৭ সাল থেকে ২৮ শে মে দিবসটি যথাযথভাবে পালন করা হয়। নিরাপদ মাতৃত্ব প্রত্যেক মায়েরই অধিকার। একজন সুস্হ মা-ই পারে একজন সুস্হ সন্তান জন্ম দিতে। কারন অনাগত সন্তানটিই দেশের ভবিষ্যৎ। এটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতাও বটে। এজন্য পর্যাপ্ত সুষম খাবার ও ঘুমের প্রয়োজন।

আরো গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সন্তান জন্মদানের সময় বা প্রসবকালীন ধাএীসেবার বা চিকিৎসক বা নিকটবর্তী স্বাস্হ্যকেন্দ্রের বিষয়টি। এক্ষেএে পরিবারের সকলকে অধিকতর সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের গত ২৫ বছরে গর্ভকালীন বা গর্ভ সংক্রান্ত মাতৃমৃত্যুর সংখ্যা কমেছে প্রায় অধের্ক।

 

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস ২০১৮

আমর কি পারব সকল মায়ের জন্য নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে?

Gepostet von Save the Children in Bangladesh am Montag, 28. Mai 2018

বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটে আফ্রিকা ও এশিয়ায়। স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয়ের গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন মা প্রসবজনিত জটিলতায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুবরণ করে। এই হিসাবে বছরে পাঁচ হাজারের বেশী মা প্রসবজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে।

গত ১০/৭/২০১৮ ইং তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পএিকায় প্রকাশিত হয়েছে – পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে জানা যায়- ২০১৫ সালে সেভ দ্যা চিলড্রেনের সাথে যৌথভাবে করা সার্ভে মতে, ৩১৩১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে এখন আশংকা জনকভাবে দালালের মাধ্যমে অকারণে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়। যা ঝুঁকিপূর্ণ।

২০১৬ সালের বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্য সেবা জরিপ মতে, মাতৃমৃত্যু বেড়েছে। যদিও সরকার মনে করে রিপোর্ট টি যথাযথ নয়”। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান ডেলিভারি আমাদের রোধ করতে হবে। মাতৃমৃত্যু রোধে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার ডিপ্লোমা মিডওয়াই ফারি তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়াতে সরকার ৫৭০০ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শককে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারি দিচ্ছে।

এছাড়া জনসচেতনতা তৈরীতে বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা, একলাম্পশিয়া, ইনফেকশন ও অনিরাপদ গর্ভপাতের কারনেই মাতৃমৃত্যুর মত ঘটনা ঘটে।

সারা বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে ইউএনএফপি এর পাশাপাশি ইউএনএইডস, ইউনিসেফ, ইউএন উইমেন, হু এবং বিশ্বব্যাংক একসঙ্গে কাজ করছে। ডাক্তারী পেশা নিয়ে কৌতুক করা শোভনীয় নয়। তবুও একটা প্রচলিত কৌতুক মনে পড়ে গেল- ” বিধাতাকে খেপাবেন না, তিনি খেপলে ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আর ডাক্তারকে খেপাবেন না। কারন তিনি খেপলে সোজা বিধাতার কাছে পাঠিয়ে দেন “। কৌতুক হলেও বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল রয়েছে।

চিকিৎসার মত সেবা ধর্মী মহৎ পেশায় নিয়োজিতদের কাছে মানবিক আচরনই সাধারনের প্রত্যাশা। কিন্তু আমরা বেদনাহত হই যখন দেখি- সরকারী হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েরা প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আর চিকিৎসক রা কর্মবিরতি পালন করছে। গত ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং তারিখে বাংলাভিশন টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদমাধ্যমে দেখলাম- ১৫০০/- টাকা না থাকায় ঢাকায় আজিমপুরে অবস্হিত মাতৃসদন হাসপাতাল ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জরুরী বিভাগ থেকে এক দুস্হ, অসহায়, গরীব গর্ভবতী নারীকে পাগল বলে হাসপাতাল থেকে ঠেলে বের করে তাড়িয়ে দেয়।

প্রসব যন্ত্রণায় গর্ভবতী মা ছটফট করছিল। হাসপাতালের কোনে কিছু মহিলারা কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলে। সেই গর্ভবতী মা মৃত সন্তান প্রসব করেন। — এ লজ্জা কার? কিছু কিছু জায়গায় কিছু ডাক্তারদের নিষ্ঠুর আচরন, যা আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। এই নিষ্ঠুরতার ব্যারোমিটার কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? মাতৃসদন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ ইশরাত জাহান ভিডিও ফুটেজ দেখেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতো দোষ করেও নিজেদের স্টাফদের সাফাই গাইলেন।

 

এ হচ্ছে বাস্তবিক অবস্থা। এই সব ডাক্তার দের মানবতাবোধ কি তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে? স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারদের পাওয়া না গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওএসডি করার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

 

 

 

২৭ শে জানুয়ারী, ২০১৯ ইং রোজ রবিবার, সকাল ১০.০০ ঘটিকায় স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। ( সূএ- ইন্টারনেট)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্যোগে সাধুবাদ জানাই। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দেশবাসীর পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি – অসহায়,দূর্বল, গরীব গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদানে যদি কর্তব্যরত চিকিৎসক বা সেবিকারা কোন রকম গাফিলতি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার।

এতে সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ চলে আসবে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে আবারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন রেখে গেলাম- আমরা কি আশার বুক বাঁধতে পারি? নাকি হতাশার অন্ধকারে তলিয়ে যাব? প্রতিটি গর্ভ হোক নিরাপদ। প্রতিটি শিশুই এই পৃথিবীর আলো বাতাসে আসার সুযোগ পাক নিরাপদভাবে।

 

মায়ের জন্য সুস্হ মানসিক বিকাশে আমরা যদি তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হই তাহলে এই পৃথিবী ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এজন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি দূর করতে হবে সব ধরনের কুসংস্কার। তবেই এ দিবসের সার্থকতা। আসুন আমরা কামিনী রায়ের সুরে সুর মিলিয়ে একসাথে বলতে চায়  ” আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে। সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে “।।

বিশেষ কলাম –

জেসমিন ইসলাম উল্কা

মানবাধিকার কর্মী।

About todaynews24

Check Also

পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *