বৃহস্পতিবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার , ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Home / জাতীয় / ধর্ষণ অত:পর বিলীন ….!!!!!!

ধর্ষণ অত:পর বিলীন ….!!!!!!


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ বেড়েই চলেছে। এক সময় ইভটিজারদের উপদ্রব থাকলেও তা অনেক কম। এখন ধর্ষনে রুপ পেয়েছে।ধর্ষকদের হাত থেকে রক্ষা নাই শিশু থেকে শুরু করে কিশোরী, তরুণী, গৃহবধু, অন্তঃসত্ত্বা ও বয়স্ক মহিলা। এমনকি পিতার হাতেও নিরাপদ নয় নিজ ঔরসে জন্ম নেয়া মেয়ে। ছাএী নিরাপদ নয় শিক্ষকের হাতে। ঘরে- বাইরে গেলে হাজার হাজার নোংরা হাত এগিয়ে আসে নারীর দিকে।
একশ্রেনীর বিকৃতমনা পূরুষ যৌনশক্তি বা পুরুষাঙ্গে অপব্যবহার করে নারী ও শিশুকে অন্যায়ভাবে বলৎকার করছে। ধর্ষণ করে তাদের জীবনকে ধ্বংস করছে। এ ধরনের অপরাধ চক্র বৃদ্ধি হারে বাড়ছে।

দশ বছরের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়ায় – মোট ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ৮০৭০টি। এর মধ্যে
ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা করা হয়েছে ৮৯২ জন। সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত বছরে সারা দেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৩৯১৮ জন নারী।যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বিভিন্ন বয়সের ৯৪২ জন। এতে গণধর্ষণের ঘটনা ১৮২ টি। শুধু পএিকায় প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে ( সূএ- কালের কন্ঠ পএিকা, ০৬/১/২০২৯ ইং)।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথম ১৮ দিনে দৈনিক প্রথম আলোয় ২৩ টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনই শিশু- কিশোরী। এমনকি এর মধ্যে দুই বছরের শিশুও রয়েছে।
পরবতীতে চলতি বছরে প্রথম তিন মাসে দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছিল যে, ১৭৬ জন শিশু ধর্ষনের শিকার। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ২৫ জন শিশুকে। ৬ই মে, ২০১৯ ইং তারিখে বিভিন্ন পএিকায় প্রকাশিত হয়, শুধু পোশাক কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের শতকরা ২২ দশমিক ৪ ভাগ কর্মক্ষেত্রে যৌনহয়রানীর শিকার হয়ে থাকে। এ ধরনের সহিংসতা থেকে মুক্তি পাবার উপায় কি?

পারিবারিক অস্থিরতা, আর্থিক অনটন,শারীরিক – মানসিক অসুস্থতা,কুসংসর্গ, হীনম্মণ্যতা, হিংসাত্মক হতেই একজন ধর্ষক হিসাবে গড়ে ওঠা। একজন শিশু ছোট বেলা থেকে যদি পরিবার থেকে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে না ওঠে তাহলে সে মানুষকে মানুষ হিসাবে মূল্যায়ন করবে না। রাস্তায় মেয়েদের শরীরে হাত মারবে, অন্ধকারে আক্রমণ করবে, সুযোগে হয়তো ধর্ষক হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে আপনি চাইলেই যার তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন না। অবশ্যই নারী বা মেয়েটিকে রাজি হতে হবে।এর ব্যতিক্রম হলে আপনাকে আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী ধর্ষনের চেষ্টা বা ধর্ষন সংঘটনের সময় যদি কোনো ধর্ষক খুন হয় তবে তা অপরাধ হিসাবে গন্য হবে না। এমন পরিস্থিতিতে একজন নারী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতেই পারে।

১৫ই এপ্রিল /২০১৯ইং তারিখে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে ধর্ষন বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি শুধুমাএ একজন নারী ম্যাজিষ্ট্রেট গ্রহন করবেন। এমন নির্দেশনা দিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেটদের প্রতি সার্কুলার জারি করেছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সার্কলারে বলা হয়- নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইন, ২০০০ বর্নিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিব হাল ব্যক্তির জবানবন্দি উক্ত আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধ কৃত উক্ত জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। যাতে ভিকটিমরা সহজে ও নিঃসংকোচে তাদের উপর নির্যাতনের বর্ননা দিতে পারবেন। (সূএ-ইন্টারনেট)।

এদিকে ০৯/৩/২০১৯ ইং তারিখে ইন্টারনেট সূএ থেকে জানা গেছে, শিশু ধর্ষনের অপরাধে সরাসরি মৃতুুদন্ডের বিধানে সই করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে ধর্ষন ও ধর্ষককে জিরো টলারেন্স নীতি হিসাবে হুশিয়ার করা হয়েছে।

আমাদের সমাজে ধর্ষণকে দেখা হয় ধর্ষণকারীর অপরাধের পাশাপাশি ধর্ষিতার অপরাধ ও ধর্ষিতার বর্ননা – তাকে হেয় করে সমাজ। ধর্ষণকারীর সম্মানহানীর পরিবর্তে বরং উল্টোভাবে ধর্ষিতার সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হওয়ার হুমকির মধ্যে থাকে। অনেকে ধর্ষনে নারীর পোশাককে দায়ী করে আসছে। অনেকে নারীদের অবাধ বিচরনকে ধর্ষণের কারণ বলে মনে করেন। তাহলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ভদ্র,বোরকা পরিহিত, মেধাবী ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু এবং কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে দূর্বৃত্তরা যেভাবে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড করে। ২০১৬ সালে অক্টোবরে পার্বতীপুরে এক বয়স্ক ধর্ষক এমনই বর্বর যে, ছয় বছরের শিশুর যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে তাকে ধর্ষণ করেছিল। ভিকটিমদের কি অপরাধ ছিল? ঝিনাইদহ এক মাদ্রাসা ছাএী যাকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। গত ৬ ই মে, ২০১৯ কিশোরগন্জ্ঞে স্বর্ণলতা পরিবহনে বাসের ড্রাইভার ও হেলপার কতৃর্ক এক নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া ( বয়স- ২৩) কে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। তনু, রুপা,নুসরাত, তানিয়ারা তো বোরকা পরেও পশুদের হাত থেকে রক্ষা পেল না। প্রতিটি ধর্ষককে আমরা মনে-প্রাণে ঘৃণা করি ও ধিক্কার জানায়।

আবার রাজনৈতিক ছএছায়ায় রুহুল আমীন সোহেল কর্তৃক পহেলা জানুয়ারী /২০১৯ দিবাগত রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় চার সন্তানের জননী তার পরিবারের সামনে গণধর্ষণের শিকার। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান বলেছিলেন – “রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকলে আইন তাকে স্পর্শ করে না “। এতে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।


এ রকম ভয়াবহ অপরাধের মামলা এখনও পর্যন্ত ঝুলে আছে। বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষা, যৌনাচার ও বিকৃত মানসিকতা ছাড়াও অধিকাংশ গণধর্ষণ মামলায় বা একক ধর্ষণের পিছনে অপরাধীদের শক্তি যোগায় তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি বা আর্থিক শক্তির জোর। ধর্ষক বা ধর্ষকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, আর্থিক ক্ষমতার কাছে মাথা নত করে থানা,পুলিশ,তদন্ত কর্মকর্তা, প্রশাসন, আদালত, স্বাক্ষী, ধর্ষণ আলামত পরীক্ষা কারী চিকিৎসক ও হাসপাতাল। ফলে অপরাধীরা এক ধরনের দায়মুক্তি পেয়ে যায়। কবির ভাষায় বলতে হয়- বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাদেঁ।
তনু হত্যা কান্ডের বিচার না হওয়া, বারবার ময়নাতদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সংশয়পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন, অপরাধীদের বিচারবহির্ভূত করে রাখা,হত্যার দীর্ঘসূএিতা প্রমাণ করে যে সরিষার মধ্যে ভূত।

সেই রহস্যটা অধরেই রয়ে গেছে। সুবিচার কোনদিক থেকেই সুফল মেলেনি। বারবার তনু হত্যার মতো ইস্যূগুলো হারিয়ে যায়। বিচার ছাড়াই ইস্যূগুলো ভুলে যাই সবাই। কথায় বলে- ” জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড “। অর্থ হলো – বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে ন্যায়বিচার অস্বীকার করা। তনুর বেলায় এমনটি হয়েছে। সামনে একটা ক্ষীণ আশার বাতি জ্বলছে। আমরা চাই- প্রশাসনের দায়িত্বশীল আচরণ। আমাদের দাবী- ধর্ষনের মামলা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করতে হবে। অভিযোগপএ বা চার্জশিট ঘটনার সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে।
আমাদের প্রাসঙ্গিক দাবী- রুপা হত্যা মামলার রায় যেভাবে দ্রুত কার্যকর হয়েছে, তেমনি তনু ও নুসরাত , তানিয়া হত্যার মামলার রায় দ্রুত কার্যকর হউক। চাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সদিচ্ছার বাস্তবায়ন। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আরো গুনতে হবে তনূ, রিশা,নার্গিস,খাদিজা, রুপা,নুসরাতের, কুমিল্লার কিশোরী নীলূফা আক্তার, শাহিনুর আক্তার তানিয়ার মতো আরো নির্মম ঘটনার। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির থেকে বের হয়ে এসে ধর্ষণ বা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যা যা প্রয়োজন দ্রুত তা করা হউক।
 

বিশেষ কলাম –

জেসমিন ইসলাম 

মানবাধিকার কর্মী।

About todaynews24

Check Also

আবরার হত্যা ফাঁসির দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছে সারাদেশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশ। মঙ্গলবার দিনভর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *