শুধু যানজটের জন্যই ঢাকায় প্রতি বছরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রতি দিন নষ্ট হচ্ছে ৩২ লক্ষ কর্মদিবস।

এই তথ্য দিয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। ওই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থার হিসেবে, তীব্র যানজটের জন্য ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গতিবেগ ঘণ্টায় গড়ে মেরেকেটে সাত কিলোমিটার। এ ভাবে চললে কিছু দিন পরে হেঁটেই গাড়ির আগে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারবে মানুষ। আশঙ্কা, ২০২৫ সালে ঢাকায় যানবাহন ঘণ্টায় চার কিলোমিটারের বেশি গতিতে ছুটতে পারবে না।

 ‘২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার উন্নয়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক বিশ্ব ব্যাঙ্কের একটি সম্মেলন থেকেই এই সব তথ্য মিলেছে। ঢাকার নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীতে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ প্রাইভেট কার। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) হিসেবে, এ বছরের মে মাস পর্যন্ত ঢাকার রাস্তায় বাস ও মিনিবাসের চেয়ে সাত গুণ বেশি চলেছে প্রাইভেট কার।

যানজটকে ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাঙ্কের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেছেন, ‘‘১০ বছর আগেও ঢাকায় যানবাহনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। এখন সেই গতি ঘণ্টায় সাত কিলোমিটারেরও কম। যে হারে ঢাকায় যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে আর ক’বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি কার্যত, নাগালের বাইরে চলে যাবে।’’

ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় যানজট সমস্যা মেটানোর লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের উল্লেখ করেন। মোশারফ বলেন, ‘‘গণ পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) এবং বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগিয়ে চলেছে।’’

বিশ্ব ব্যাঙ্কের হিসেবে, ঢাকার এখনকার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ। ২০৩৫ সালে তা দ্বিগুণ হয়ে সাড়ে ৩ কোটি হবে।